Full transcript
0:00হেই বন্ধুরা এই লাইট হাউসটিকে পাহারা দিতে
0:02আপনাকে বছরে প্রায় 15 কোটি টাকা দেওয়া
0:05হবে সঙ্গে রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ সুবিধা
0:08যেমন এখানে থাকবে না আপনার কোন বস আপনি
0:11সম্পূর্ণ একা নিজের ইচ্ছেমত ঘুমাতে পারবেন
0:13মাছ ধরতে পারবেন যা মন চায় তাই করতে
0:15পারবেন আপনার কাজ থাকবে শুধুমাত্র দেখা যে
0:18এই লাইট হাউসের লাইটটি ঠিকঠাক ভাবে জ্বলছে
0:20কিনা যদি লাইটটি কখনো বন্ধ হয়ে যায়
0:23তাহলে সাথে সাথে লাইটটিকে আবারো অন করে
0:25দিতে হবে ব্যাস এইটুকুই আপনাকে করতে হবে
0:28আপনি চাইলে সারাদিন শুধু পায়ের উপর পা
0:31তুলে ঘুমিয়ে থাকতে পারবেন এবং মাসের শেষে
0:33কোটি কোটি টাকা গুনবেন চাকরিটা পেতে খুব
0:36ইচ্ছা করছে নিশ্চয়ই তবে এপ্লাই করবার আগে
0:38জেনে নিন এত সুযোগ সুবিধা থাকার পরেও এটা
0:41পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে ভয়ঙ্কর একটি কাজ
0:44কারণ এই লাইট হাউস ঠিক একদম সমুদ্রের মাঝে
0:47অবস্থিত এখানে থাকা অবস্থায় আপনি কারো
0:50সাথেই যোগাযোগ করতে পারবেন না একাকিত্ব
0:52আপনাকে সবসময় ঘিরে থাকবে সবথেকে ভয়ঙ্কর
0:56ব্যাপার হলো প্রায় সময়ই এখানে বেশ বড়
0:58বড় ঝড় হয় সেই এইসব ঝড়ের তান্ডব এতটাই
1:01ভয়ঙ্কর হয় যে মাঝেমধ্যে সমুদ্রের জল
1:04টাওয়ারের উপরে উপচে পড়ে যার ফলে এই কাজে
1:08মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে আরো কি কি
1:10মহাবিপদ এখানে পথ পেতে রয়েছে তা একটু
1:13পরেই জানতে পারবেন কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো
1:16এই লাইট হাউস সমুদ্রের মাঝেই কেন তৈরি করা
1:19হয়েছে এর কাজই বা কি আর কেনই বা এই লাইট
1:22হাউসের উপরে সবসময় নজর রাখতে হয় আর কেনই
1:25বা এর লাইট কখনো বন্ধ করা যায় না
1:28রহস্যময় এই লাইট হাউস গুলির আদ্যপ্রান্ত
1:31জানতে হলে আপনাদেরকে ইতিহাসে ফিরে যেতে
1:34হবে সেই ইতিহাসে যেখানে দীর্ঘ পথ
1:36যাতায়াতের জন্য না ছিল কোন গাড়ি আর না
1:39ছিল কোন যানবাহন তখন বিশাল লম্বা পথ পাড়ি
1:43দেওয়ার জন্য একমাত্র উপায় ছিল জলপথ সেই
1:46সময়কালে ক্যাম্পেড মারিয়াস নামের একজন
1:48অসাধারণ নাবিক ছিলেন তিনি প্রতিকূল
1:51অবস্থাতেও সমুদ্র ভ্রমণের জন্য বেশ
1:54বিখ্যাত ছিলেন তো একবার তিনি তার জাহাজ
1:56নিয়ে সমুদ্রের মাঝে ঘুটঘুটে অন্ধকারের
1:59মধ্যে দিয়ে একটা জায়গা দিয়ে যাচ্ছিল
2:02ঠিক তখনই সমুদ্রের নিচে থাকা একটি বৃহৎ
2:04আকার পাথরের সাথে জাহাজের ধাক্কা লাগে সেই
2:08সময় জাহাজগুলো তৈরি করা হতো কাঠ দিয়ে
2:10যার কারণে পাথরের সাথে জাহাজের ধাক্কা
2:13লাগায় জাহাজের নিচে খুব সহজেই ফাটল ধরে
2:16যায় এবং জল ঢুকে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়
2:19কিন্তু সময় মতো ক্যাম্পেড মারিয়াস এবং
2:21তার সঙ্গীরা জাহাজটাকে মেরামত করতে সক্ষম
2:24হয় ফলে তাদের প্রাণ বেঁচে যায় এই
2:26দুর্ঘটনার পরেই ক্যাম্পেড মারিয়াস এর
2:28একটি সমাধান খুঁজতে থাকে তিনি এমন কিছু
2:31তৈরি করতে চাইছিলেন যার মাধ্যমে জাহাজের
2:33নাবিকেরা এইসব বিপদ থেকে আগে থেকেই সতর্ক
2:37হতে পারবে কিন্তু এখানে মহা দুশ্চিন্তার
2:40কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রশান্ত মহাসাগরের
2:42বিশালতা কারণ প্রশান্ত মহাসাগর এতটাই বড়
2:45আর বিশাল যে যদি সাতটা মহাদেশের সম্পূর্ণ
2:48ভূমি একত্র করা হয় তবুও প্রশান্ত
2:52মহাসাগরের আয়তনই বেশি থাকবে হাজার হাজার
2:55বছর আগে যখন নাবিকেরা এই বিশাল সমুদ্র
2:57পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতো তখন তাদের
2:59সমুদ্রের নিচে থাকা কোন কিছু সম্পর্কেই
3:02কোন ধারণা থাকতো না এমনকি তাদের সামনে
3:05থাকা রাস্তা সম্পর্কে তাদের কোন আইডিয়া
3:07থাকতো না সেই সময় পথ নির্দেশনার জন্য কোন
3:10রকম প্রযুক্তি ছিল না যেটা তাদেরকে রাস্তা
3:13চিনতে সাহায্য করবে মূলত সেই সময়
3:15নাবিকদের সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য
3:17সূর্যের দিকে কিংবা চাঁদ অথবা তারার উপরেই
3:21নির্ভর করতে হতো আর এই দিক নির্দেশনার
3:23সমস্যা থেকেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতো
3:26যেমনটা ক্যাপ্টেন এলিসের সাথে হয়েছিল
3:29একবার ক্যাপ্টেন এলিস তার নাবিকদের সাথে
3:31প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়েছিলেন তো
3:34একদিন রাতে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয় পুরো
3:36আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে স্বাভাবিকভাবে
3:39আকাশের সব তারাও মেঘের নিচে ঢাকা পড়ে
3:41যায় যার কারণে প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে তারা
3:44রাস্তা হারিয়ে ফেলে যখন সকাল হয় তারা
3:47দেখতে পায় বিশাল সমুদ্রের মাঝে তারা
3:49হারিয়ে গেছে তাদের কাছে তখন খাওয়ার জন্য
3:52কিছুই ছিল না এমনকি খাওয়ার জন্য জল অব্দি
3:55ছিল না ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় নাবিকদের অবস্থা
3:57বেশ খারাপ হয়ে যায় তারা সমুদ্রের বিশাল
4:00জলের মধ্যে থেকেও জলের অভাবে তৃষ্ণায়
4:03কাতর হয়ে গিয়েছিল যার ফলে অনেক নাবিক
4:06মারা গিয়েছিল এরপর অনেক কষ্টে অনেকদিন পর
4:09ক্যাপ্টেন তীরের দেখা পায় এরপরেই মূলত
4:12লাইট হাউস তৈরির যাত্রা শুরু হয় মিশরের
4:15ভূমধ্য সাগরের পাশেই ছিল আলেকজান্ড্রিয়া
4:18সেই সময় সেখানকার শাসক ছিলেন টলেমি দা
4:21সেকেন্ড ফিলাডেলফিয়া কিন্তু এই রাজ্যের
4:23জন্য সেই সময়ের সবথেকে বড় সমস্যা ছিল
4:26তাদের অবস্থান বা লোকেশন আপনি যদি এই
4:29ছবিটা একটু ভালো করে লক্ষ্য করেন তাহলেই
4:31বুঝতে পারবেন এই শহরের মধ্যে প্রবেশের
4:34জন্য এই সরু পথ দিয়েই তাদের যাতায়াত
4:36করতে হতো আর এই জায়গার আশেপাশেই অনেক বড়
4:39বড় পাথর ছিল যার ফলে এই শহরে বাণিজ্য
4:42করতে আসা জাহাজগুলো যখনই এই রাস্তা পার
4:45হতো তখনই খুব সহজেই পাথরগুলোর সাথে
4:48জাহাজগুলোর ধাক্কা লাগতো আর এর ফলে কখনো
4:51কখনো এইসব জাহাজগুলো ডুবে যেত কিংবা বড়
4:54ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতো তাই
4:57দিন দিন এই রাজ্যের বাণিজ্যিক জাহাজ কমে
4:59যাওয়ার কারণে রাজ্যটি অর্থনৈতিক দিক থেকে
5:03অনেকটা পিছিয়ে পড়তে থাকে টলেমি তখন তার
5:06রাজ্যকে রক্ষা করবার জন্য সেই সময়ের
5:08সবচাইতে বিখ্যাত আর্কিটেক্ট সস্ট্রাস অফ
5:11সিনাডাস এর কাছে যায় তার কাছে এই সমস্যা
5:14থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন দুইজন
5:16মিলে চিন্তা করে একটি ধারণা বার করেন সেই
5:19ধারণাটি ছিল সমুদ্রের জলের উপর তারা এমন
5:22এক দুর্গ গড়ে তুলবেন যার উপরে থাকা
5:25আলোক-রশ্মি সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলোকে গাইড
5:28করবে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সস্ত্ররাস
5:31কাজ শুরু করে দেয় কিন্তু তখন তিনি ভাবতে
5:33পারেননি যে তিনি যা করতে চলেছেন সেটা
5:36একসময় পুরো পৃথিবীতে অন্যতম একটা সৃষ্টি
5:39হয়ে উঠবে যা পুরো পৃথিবীতে
5:42আলেকজান্ড্রিয়ার বাতি ঘর নামে পরিচিত
5:44হয়ে উঠবে আলেকজান্ড্রিয়ার এই লাইট
5:46হাউজের উচ্চতা ছিল 384 ফুট এটা পুরোটাই
5:50বানানো হয়েছিল সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে
5:52এই লাইট হাউজের মাথার উপরে সেই সময়
5:54প্রতিনিয়ত আগুন জ্বালিয়ে রাখা হতো যার
5:57জন্য এই লাইট হাউজে সবসময় তেল আর কাঠের
6:00যোগান দিতে হতো এমনকি এই লাইট হাউসকে
6:03পরবর্তীকালে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি
6:06হিসাবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয় শুধুমাত্র এর
6:09উচ্চতার জন্যই এটা বিখ্যাত ছিল না সেই
6:12সাথে ছিল এর অসাধারণ ডিজাইন মূলত সস্যাটাস
6:16আলোর রশ্মি বা তীব্রতা ছড়িয়ে দেওয়ার
6:18জন্য সেই সময় আয়না বা লেন্স দিয়ে একটি
6:21ডিজাইন তৈরি করে যাতে করে এই লাইট হাউসের
6:25আলো অনেক দূরে থাকা জাহাজের নাবিকদের পথ
6:27দেখাতে পারে যখন এই লাইট হাউসের নির্মাণের
6:30খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন নাবিকেরা যেন
6:33স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কারণ এখন তাদের
6:35আলেকজান্ড্রিয়াতে আসার পথে তাদের আর পথ
6:38ভুল করতে হবে না পাথরের আঘাতে জাহাজও ভেঙে
6:41যাবে না আর এইভাবেই লাইট হাউজের আইডিয়া
6:44পুরো পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে
6:46যদিও প্রথম দিকে এই লাইট হাউসের ব্যবহার
6:49সমুদ্রের মাঝে শুধুমাত্র জাহাজকে সাবধান
6:52করবার জন্য তৈরি করা হতো কিন্তু সময়ের
6:55সাথে সাথে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা যত
6:57বাড়তে থাকলো ততই সমুদ্রের যেসব জায়গায়
6:59পাথরের উচ্চতা সমুদ্রের জলের উচ্চতার
7:02কাছাকাছি কিংবা যেখানে অনেক বেশি পাথর
7:04রয়েছে যেগুলির সাথে খুব সহজেই জাহাজের
7:07ধাক্কা লাগতে পারে সেইসব জায়গাগুলোতেও
7:10তখন লাইট হাউস তৈরি হওয়া শুরু হয় যদিও
7:12প্রথম দিকে লাইট হাউসে সবসময় আগুন
7:15জ্বালাতে হতো যা সবদিক বিবেচনা করে বোঝা
7:18যায় এটা মোটেও সঠিক ধারণা ছিল না কারণ এর
7:20জন্য সবসময় কয়লা বা জ্বালানি কাঠের
7:22যোগান রাখতে হতো লাইট হাউসে তখন অবশ্য এটা
7:25ছাড়া আর কোন উপায়ও ছিল না এরপর মোমবাতি
7:28কিংবা ল্যাম্পের ব্যবহার করা হয়েছে ছিল
7:30কিন্তু এতে আগুনের আলোর রশ্মি খুব বেশি
7:33দূর যেতে পারতো না এরপর আবিষ্কার হয়
7:35বৈদ্যুতিক বাল্ব লাইট হাউস গুলোতেও আগুনের
7:38পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাল্ব ব্যবহার করা
7:41শুরু হয় কিন্তু তারপরেও এই আলো খুব বেশি
7:43দূর যেতে পারতো না এর কারণ হলো
7:45লেন্সগুলোকে বাল্বের পেছনে লাগানো হতো
7:48এরপর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যদি
7:50বৈদ্যুতিক বাল্বগুলোকে লেন্সের সামনে
7:52বসানো হয় তাহলে আরো বেশি দূর পর্যন্ত
7:56আলোর রশ্মি পৌঁছাতে পারবে কিন্তু
7:58বিজ্ঞানীরা খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পারেন যে
8:00লেন্সগুলোতেও বেশ সমস্যা আছে কারণ তখনকার
8:03লেন্সগুলো ছিল খুবই মোটা আর ঠিক তখনই
8:06ফ্রান্সের একজন বিজ্ঞানী আগাস্টিন জিন
8:08ফ্রেসলেন এক বিশেষ ধরনের লেন্স আবিষ্কার
8:11করেন তার বানানো এই বিশেষ লেন্সের মধ্যে
8:14দিয়ে আসা সমস্ত আলো সরাসরি গিয়ে একটি
8:17পয়েন্টে মিলিত হতো যার ফলে বৈদ্যুতিক
8:20বাল্বের আলো খুব সহজেই নির্দিষ্ট একটা
8:23পয়েন্টে অনেক দূর পর্যন্ত পাঠানো যেত এই
8:26লেন্সগুলোকে ফ্রেশনেল লেন্স বলা হয়
8:28বর্তমান সময় প্রায় সব লাইট হাউজেই
8:31ফ্রেশনেল লেন্স ব্যবহার করা হয় লেন্সের
8:34এই আবিষ্কার লাইট হাউসকে এক নতুন রূপ
8:36দিয়েছিল যে কারণে এখনো সমুদ্রের বুকের
8:40জাহাজগুলো নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে
8:42কিন্তু এই লাইট হাউসকে যারা পাহারা দেয়
8:45তারা নিঃশব্দে নিজেদের কাজ নির্জনে করে
8:48চলেছে ঠিক ভূতের মতো অ্যামাজনের স্নেক
8:51আইল্যান্ডে অবস্থিত লাইট হাউসে যারাই কাজ
8:54নেয় তারাই সাপের কামড়ে মারা যায় এখন এই
8:58লাইট হাউস মানব শূন্য কিন্তু কে যেন সেই
9:01লাইট হাউসের দেখাশোনা করেই চলেছে এমন অনেক
9:04লাইট হাউসের গল্প প্রচলিত আছে যা আপনাকে
9:08একটি রাতও লাইট হাউজে কাটানোর সাহস জোগাবে
9:12না আর এই জন্যই তো কোন স্বাভাবিক মানুষকে
9:14এত পারিশ্রমিক দেওয়ার পরেও নির্জন এই
9:17লাইট হাউস গুলিতে তারা থাকতে চায় না কারণ
9:20কেউ কখনোই নিজেকে এই ভয়ঙ্কর এবং
9:23নির্জনতার মাঝে হারাতে চায় না ভিডিওটি
9:26ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করুন এবং কমেন্ট
9:28বক্সে জানান আপনারা কি লাইট হাউজের
9:31ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনা সম্পর্কে ভিডিও দেখতে
9:33চান কিনা সর্বশেষে থ্যাংকস ফর ওয়াচিং
9:36স্টে হ্যাপি স্টে কুল