Full transcript
সূচনা
0:15আচ্ছা মায়ের ভালোবাসা চাওয়াটা কি পাপ? যদি এটা পাপ নাই হতো তাহলে বাচ্চাটার সাথে
0:20এমন কেন হলো? ইন্দোনেশিয়ায় সত্যি এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল যা খবরও সম্প্রচার করা
0:24হয়েছিল। একটা দ্বীপ যেটা জিপিএসও খুঁজে পাওয়া যায় না। সেটা হঠাৎ কুয়াশার ভেতর
0:29থেকে জেগে ওঠে। কিছু বন্ধু-বান্ধব নৌকা নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল। তারা ভুলেও
0:33ভাবেনি এই দ্বীপে পা রাখা তাদের জীবনের সবথেকে বড় ভুল হয়ে দাঁড়াবে। জঙ্গলে ভরে
0:38আছে লাশের পর লাশ। গাছে ঝুলছে কয়েক মাস বা বছরের মৃতদেহ। এখন এদের মধ্য থেকে একে
0:44একে মরতে শুরু করেছে। আর চারিদিক থেকে শুধু ভেসে আসছে একটি মাত্র বাচ্চা মেয়ের
0:49কান্না। কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অংশটা ভূতের না। ভয়ঙ্কর হলো সেই কারণটা
0:55যে কারণে একটা নিষ্পাপ বাচ্চা মেয়ে এই দ্বীপের সবথেকে ভয়ঙ্কর সত্তায় পরিণত
0:59হয়েছিল। সে শুধু একটা জিনিসই চেয়েছিল সারাজীবন মায়ের ভালোবাসা। আর সেটা না
1:04পেয়ে সে হয়ে উঠেছিল এমন কিছু যার সামনে পুরো দ্বীপটাই হয়ে গিয়েছিল এক জীবন্ত
1:09নরক। এখন প্রশ্ন হলো যে মেয়ে শুধু মায়ের ভালোবাসা চেয়েছিল তাকে কি আসলে কখনো দোষ
1:14দেওয়া যায়? ওয়েলকাম ব্যাক। আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আরো একটি নতুন
1:19ভিডিওতে। আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আমি এক্সপ্লেইন করবো ইন্দোনেশিয়ার
1:23একটি হরর মুভি যার নাম পোলাহান্তু অর্থাৎ ঘোস্ট আইল্যান্ড। আমি সুলতান আছি আপনাদের
1:28সাথে পুরো ভিডিও জুড়ে। তো চলুন আর দেরি না করে সরাসরি চলে যাওয়া যাক মূল গল্পে।
1:33তার আগে অবশ্যই চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন।
Main Story
1:38গল্পের শুরু হয় একটা মানসিক হাসপাতালে। সেখানে এক রোগী জানালার দিকে আঙ্গুল তুলে
1:43বলছিল, সে এখনো মরেনি। এটা দেখে এক নার্স তাকে থামিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দেয়।
1:48এরপর সেই নার্সকে দেখা যায় হাসপাতালের ইনচার্জের সাথে কথা বলতে। তারা কথা বলছিল
1:52কারো একটা লাশ দাফন করা নিয়ে। বলছিল যে এই লাশ দাফন করতে তার পরিবার থেকে কেউ
1:57আসবে না। তারপর হঠাৎ সব রোগী আর নার্সরা হাওয়াতে ভাসতে শুরু করে। যেন কোন অদৃশ্য
2:02শক্তি তাদের শূন্যে ভাসিয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ সবাই মাটিতে পড়ে যায়। ইনচার্জ তখন
2:06নার্সদের বলে সব রোগীকে সরিয়ে নিতে। আর নিজে গিয়ে সেই রোগীকে শান্ত করার চেষ্টা
2:11করে। যে বলেছিল সে এখনো মরেনি। স্পষ্ট বোঝা যায় সে রোগীটা কাউকে দেখতে পাচ্ছিল।
2:16ইনচার্জও তখন শুনতে পায় শিকলের আওয়াজ কিন্তু আশেপাশে তো কেউ নেই তবুও সে রোগীকে
2:21নিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকে কিন্তু হঠাৎ ভয়ে টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়ে সেই রোগীটি
2:25ইনচার্জ তাকে আবার শান্ত করার চেষ্টা করে ঠিক তখনই উপরে ঝুলতে থাকা জাহার বাতিটা
2:30এসে পড়ে ইনচার্জের মাথায় তার মাথায় ঢুকে গিয়ে ইনচার্জ সেখানেই শেষ হয়ে যায়
2:34পরের দৃশ্যে দেখা যায় দারা নামের একটা মেয়েকে যে কিছুদিনের মধ্যেই গ্রাজুয়েট
2:38হতে চলেছে তো দারা বন্ধুদের সাথে একটা ফেয়ারওয়েল ট্রিপে যেতে চাইছিল কিন্তু
2:43তার মা তাকে এই ট্রিপে যেতে দিতে চাইছিলেন না আসলে গ্রাজুয়েশনের পর দারা জাকার্তা
2:48শহরে চাকরি করতে যাবে। খুব কম দেখা হবে তার মায়ের সাথে। তাই মা চাইছিলেন আরো
2:52কিছুদিন মেয়ের সাথে কাটাতে। কিন্তু পরের সকালেই চুপি চুপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়
2:56তারা। তাকে নিয়ে এসেছিল তার বয়ফ্রেন্ড নোভা। দারা আর নোভা তাদের বন্ধু লাথি,
3:01পান্তু আর নিকির সাথে নৌকায় করে বেরিয়ে পড়ে সমুদ্র ঘুরতে। পথে খুব মজা করে সবাই।
3:06কথায় কথায় তারা বলে ফেলে, তার ভয় হয় গ্রাজুয়েশনের পর হয়তো আর কখনোই একসাথে
3:11দেখা হবে না তাদের। তখনই সেখানে আসে নৌকার ক্যাপ্টেন জামাল ভাই। নোভাকে জানায় যে
3:16সাত মিনিটের মধ্যেই ফিরতে হবে এখান থেকে। কিন্তু নিকি আরো কিছুক্ষণ সময় থাকতে
3:20চাইছিল। তাই নোভা গিয়ে জামাল ভাইকে বলে আরো আধা ঘন্টা থেকে তারপর ফিরবে। জামাল
3:25ভাইও রাজি হয়ে যায়। এদিকে দারা দেখে তার মা জেনে গেছে যে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে
3:30গেছে। তার ফোনে অনেকগুলো কল এসেছিল। আর এটা দেখে মন খারাপ হয়ে যায় তার। লাথি
3:34জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? তারা জানায় সে তার মাকে না বলে এখানে এসেছে। এদিকে নৌকার
3:39চারপাশে তখনও কিছুই ছিল না। কিন্তু হঠাৎ চারিদিকে ঘন কুয়াশা নেমে আসে। জামাল আর
3:44নোভা দেখে ঠিক সামনে একটা দ্বীপ। জামাল নৌকা ঘরানোর আগে সে নৌকা গিয়ে দ্বীপের
3:49কিনারায় উঠে পড়ে। এত জোরে যাচ্ছিল যে নৌকাটা কিনারা থেকে বেশ উঁচুতে উঠে যায়।
3:53মানে বালুর উপরে উঠে যায় আর কি। জামাল এসে সবাইকে জানায় সে নিজে নৌকা সমুদ্রে
3:58নামাতে পারবে না। তাদেরকে জোয়ারের অপেক্ষা করতে হবে। মানে পানি আবার এসে
4:02তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। আর এতে সময় লেগে যাবে তাদের চার থেকে পাঁচ ঘন্টা। এটা
4:07শুনে জামালের উপর রেগে যায় নিকি। কারণ সে একটা দামি হোটেলের রিজারভেশন করে রেখেছিল।
4:12দেরি হলে সেটা বাতিল হয়ে যাবে। আর সেখান থেকে কোনো রেফান্ডও পাওয়া যাবে না।
4:16নিকিকে চিৎকার করতে দেখে নোভা আর দারা তাকে থামায়। সবাই তখন ফোনের সিগনাল চেক
4:20করতে থাকে। কিন্তু কারো ফোনে সিগনাল পাচ্ছিল না। কিন্তু তখনই তারা দেখতে পায়
4:25আরেকটা নৌকা। প্রথমে ভাবে হয়তো তাদের মতই আটকে পরা কারো নৌকা। কিন্তু দেখে বোঝা
4:30যায় এটা একটা সাপ্লাই বোর্ড। অর্থাৎ আশেপাশে নিশ্চয়ই কেউ ছিল যার জন্য এই
4:34সাপ্লাই বোর্ডটা এসেছিল। কাছে দ্বারা খুঁজে পায় একটা মহিলার জুতো। যাতে
4:38লেগেছিল কিছুটা রক্ত। পাশে ছিল আরেকটা নৌকা যাতে লেখা ছিল এস ও এস। বোঝা যাচ্ছিল
4:44এখানে কেউ একজন সাহায্য চাইছিল। ঠিক তখনই তারা শুনতে পায় জঙ্গলের ভেতর থেকে একটা
4:49বাচ্চা মেয়ের কন্ঠ। সে তার মাকে ডাকছে। এই আওয়াজ শুনে নোভা তাকে সাহায্য করতে
4:53ছুটে যায়। নিকি বারণ করে তাকে। কিন্তু নোভা যেন কিছুতেই নিজেকে থামাতে পারে না।
4:58যেন কোন অদ্ভুত শক্তি তাকে সে জঙ্গলের ভিতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দাঁড়াও নোবার
5:02সাথে জঙ্গলে ঢুকে পরে সে বাচ্চাটাকে খুঁজতে। কিন্তু জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতেই
5:06তাদের পায়ে ঠেস লাগে একটা লাশ। যদিও লাশটা তারা দেখতে পায় না। কারণ সেটা
5:11অনেকটাই বালিতে ঢেকে গিয়েছিল। এবার দেখানো হয় কয়েক বছর আগের একটা গল্প।
5:15মালা নামের এক ছোট্ট বাচ্চার শৈশবের ফ্লাশব্যাক। জানা যায় মালা ছিল অত্যন্ত
5:20মিষ্টি আর নিষ্পাপ একটা মেয়ে। তারও ছিল সে সাধারণ ভুল গুলো। যা এই বয়সেই
5:24বাচ্চারা করেই থাকে। ঠিকমত খাবার না খাওয়া, গ্লাস ভেঙে ফেলা, ছোটখাটো
5:29জিনিসপত্র ফেলে দেওয়া এসব তো বাচ্চারা করবেই। কিন্তু তার মুখে থাকা আঘাতের
5:33চিহ্নগুলো স্পষ্ট বলে দিচ্ছিল তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। জানা যায়
5:38মালার বাবা ছোট বিষয়েও তাকে প্রচন্ড মারধর করতেন। যেমন আজকে তার হাত থেকে একটা
5:43গ্লাস পড়ে ভেঙে গিয়েছিল। আর বাবা তাকে টেনে নিয়ে একটা ঘরে বন্দি করে দেয়।
5:47ভাঙ্গা গ্লাসের একটা টুকরো ঢুকে গিয়েছিল মালার পায়ে। কিন্তু তার বাবার একটুও
5:52মায়া দয়া হয় না। মাও ছিল একই রকমের স্বামীকে থামানোর জন্য সে কিছুই করে না।
5:56এরপর আবার ফিরে আসে বর্তমান সময়ের গল্প। দ্ারা আর নোভা খুঁজে পায় একটা মোবাইল
6:01ফোন। যাতে তখনও চার্জ ছিল। এই ফোনটা আসলে সে লাশেরই হবে হয়তো। যার ওপর পা রেখেছিল
6:07দারা আর নোভা। আর যেহেতু ফোনটা এখনো চলছিল তার মানে সেই মানুষগুলো হয়তো কিছুদিন আগে
6:12এখানে এসেছিল। হয়তো সে সাপ্লাই বোর্ডের কেউ হবে। তারা হয়তো অন্য কোথাও সাপ্লাই
6:17নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কোনভাবে এখানে এসে আটকে গিয়েছিল। কিন্তু আসল প্রশ্ন সে এই
6:22নির্জন দ্বীপে মারা গেল কিভাবে? এই ব্যাপারে কিছুই জানানো হয় না আমাদের।
6:25যাইহোক তারা আবার জিজ্ঞেস করে নোভাকে। কিছু না ভেবে সে আওয়াজ শুনে জঙ্গলে কেন
6:30চলে এলো? নোভা জানায় সে এমনই মানুষ কারো সাহায্যের দরকার হলে যাই ঘটুক না কেন
6:35সাহায্য করবেই সে। দুজনে এগিয়ে যেতে থাকে। শুধু শুনতে পায় সে বাচ্চার আওয়াজ।
6:40আওয়াজের পিছু নিতে নিতে তারা পার হয় একটা পাড়। যেখানে দোলনা লাগানো ছিল। নোভা
6:45আর দ্বারা চলে যাওয়ার পর একটা দোলনা নিজে নিজে দুলতে শুরু করে। বোঝা যায় এখানে
6:49কোনো না কোনো শয়তানি শক্তি আছে। আরেকটু এগিয়ে তারা শুনতে পায় তাদের চারপাশে কেউ
6:54যেন দৌড়াচ্ছে। নোভা আর তারা আলাদা হয়ে যায়। খুঁজতে থাকে সে বাচ্চাটাকে। কিন্তু
6:59একটা গাছের কাছে তারা খুঁজে পায় একটা পচে যাওয়া লাশ। দেখেই ভয়ে চিৎকার করে ওঠে
7:04সে। তার চিৎকার শুনতে পায় নৌকার কাছে বসে থাকা নিকি, লাথি আর পানুও। পান্দু বাকি
7:09দুজনকে সেখানে থাকতে বলে নিজে জঙ্গলে ঢোকে। নোভা আর দারাকে সাহায্য করতে। ওদিকে
7:14সে দুজনও তখন নৌকার দিকে দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু যতবারই তারা নৌকার দিকে যাওয়ার
7:19চেষ্টা করে তত বড়ই ফিরে আসে সে একই লাশের কাছে যেন কোন লুপে আটকে গেছে তারা। এবার
7:24তারা দেখতে পায় আরো অনেকগুলো লাশ। যেগুলো দেখেই বোঝা যায় মাস কয়েক পুরনো। অর্থাৎ
7:29যেই এখানে আসতো সেই আটকে পড়ে মারা যেত। দুজনে আবার নৌকার দিকে যেতে থাকে। তখনই
7:34তারা লক্ষ্য করে তার মুখের উপর কিছু একটা পড়ছে। এদিকে দেখা যায় জামালকে। যে নৌকার
7:39রেডিওতে সাহায্য চাইছিল। রেডিওতে সে একটা আশ্চর্যকর কথা বলে। কুয়াশা নামার আগে এই
7:44দ্বীপটা জিপিএস এ ধরা পড়ছিল না। এই কথাটা শুনে ফেলে লাথি। তার কাছে ব্যাপারটা বেশ
7:49অদ্ভুত মনে হয়। যে দ্বীপ আগে জিপিএসই ছিল না সেটা হঠাৎ চোখের সামনে হাজির হলো
7:54কিভাবে? ওদিকে দেখা যায় পান্দুকে যে নোভা আর দারাকে তখনো খুঁজছিল। আর সেও শুনতে
7:59পাচ্ছিল সে বাচ্চার আওয়াজ। অবশেষে নোভা আর দারাকে খুঁজে পায় পান্দু। তারা তাকে
8:03সবটা খুলে বলে। জঙ্গল থেকে বেরোতে পারছে না তারা। আর এখানে অনেক অনেক লাশ। তারা
8:08পান্দুকে দেখায়। গাছেও ঝুলছিল অনেকগুলো লাশ। কেউ যেন সেগুলো উপরে ঝুলিয়ে রেখেছে।
8:13আর সেগুলো ছিল কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের পুরনো। তাদের ওই একটা লাশের রক্ত
8:18পড়ছিল দারার মুখে। পান্দ তখন সাধারণ মানুষের মত বলে হয়তো এটা কোন জন্তুর কাজ।
8:23কিন্তু তারা বলে কোন জন্তু এতটাই বুদ্ধিমান না যে মানুষ মেরে গাছে ঝুলিয়ে
8:28রাখবে। কোন জন্তু যদি এই লাশগুলোকে উপরে উঠিয়েই থাকে তাহলে সেটা চিতাবাগ টাইপের
8:32কোন কিছু হবে। আর সেটা যদি থাকতো তাহলে তো এই লাশগুলোকে খেয়েই ফেলতো। এভাবেই
8:36ঝুলিয়ে রাখার দরকার কি? এরপর তিনজনে আবার নৌকার দিকে যেতে থাকে। পথে তারা খুঁজে
8:41পায় একটা কঙ্কাল। বহু বছরের পুরনো। মানে এই দ্বীপে যে জিনিসটা আছে সেটা বছরের পর
8:47বছর ধরে এখানে আটকে পড়া মানুষদের স্বীকার করে আসছে। পান্দু একটা গাছে কাপড় বেঁধে
8:52দেয়। যাতে হারিয়ে না যায় তারা। আর তিনজনেই এবার এগতে থাকে নৌকার দিকে।
8:56কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ গায়েব হয়ে যায় পান্দু। কিন্তু আমরা দেখি পান্দু
9:00আসলে নোভা আর দারার কাছেই দাঁড়িয়েছিল। শুধু তারা একে অপরকে দেখতে পাচ্ছিল না,
9:05যেন কোন অদৃশ্য শক্তি তাদের মাঝে একটা ভয়ঙ্কর অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দিয়েছে।
9:09পান্দু তখন অন্যদিকে চলে যায়। আর নোভা ও তারা চেষ্টা করতে থাকে নৌকার দিকে
9:14যাওয়ার। কিন্তু আবারও তারা ফিরে আসে সে একই জায়গায়। মানে তারা একটা গোলক ধাঁধার
9:19মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। তারা তখন প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ভাবতে থাকে সে
9:23বাচ্চাটা কি আদৌ আসল ছিল? নাকি সেটা ছিল কোন বাচ্চার ভূত। ঠিক তখনোই তারা দেখতে
9:28পায় একটা সাইনবোর্ড। একদিকে লেখা ছিল কিনারায় যাওয়ার পথ। অন্যদিকে হাসপাতালে
9:32যাওয়ার পথ ওদিকে পান্দুও শুনতে পাচ্ছিল সে বাচ্চার আওয়াজ সাথে তার দৌড়ানোর
9:37শব্দও তখন ওই জামাল ফ্লেয়ার গান দিয়ে আকাশে গুলি ছড়ে কিন্তু কোনই লাভ হয় না
9:41কারণ আমরা আগেই জেনেছি যে এই দ্বীপটা সবাইকে দেখা দেয় না এটা একটা অদৃশ্য
9:46দ্বীপ যেটা মাঝেমধ্যেই মানুষের সামনে এসে পড়ে তার শিকারকে নিজের দিকে টেনে নিতে তো
9:50এরপর নৌকার পেছন থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পায় জামাল গিয়ে দেখে প্রেপেলারে একটা
9:55চেইন আটকে গেছে চেইনটা টেনে বের করার চেষ্টা করতে থাকে সে লাথি আর নিকি পাশে
10:00দাঁড়িয়ে দেখছিল জামাল কিন্তু হঠাৎ নিজে থেকে চালু হয়ে যায়
10:03নৌকার ইঞ্জিন চেনের সাথে সাথে টেনে নেয় জামালকেও প্রপেলারে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে
10:08যায় সে মানে এই দ্বীপ তখন বেছে নিয়েছিল তার প্রথম শিকার এসব দেখে জমে যায় নিকি
10:14আর লাতি তারা আতকে উঠে যখন তারা নৌকার উপর কাউকে দেখতে পায় মানে কেউ একজন
10:19ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিনটা চালু করে দিয়েছিল এদিকে তারা আর নোভা নৌকার কাছে যেতেই
10:25পারছিল না তাই অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করে যেন সেই শক্তিটাই চাইছিল তারা হাসপাতালের
10:30দিকে যাক আর সত্যিই তারা পৌঁছে যায় একটা পুরনো মানসিক হাসপাতালে। হাসপাতালের বাইরে
10:35একটা লাউডস্পিকার লাগালন ছিল। আর আমরা দেখি নোভা আর দারাকে। কারো একটা
10:39প্রস্পেক্টিভ থেকে যেন কোন শক্তি তাদের সবকিছুই দেখছে এবং তাদেরকে ক্রমাগত অনুসরণ
10:44করেই চলেছে। ওদিকে পান্দু আবার শুনতে পায় সে বাচ্চা মেয়ের আওয়াজ। আর একটা গাছের
10:49কাছে দেখতে পায় তাকে। কিন্তু গাছে যেতে একটা চেইন এসে নিজে থেকে বেঁধে ফেলে তার
10:54পা। উল্টো হয়ে ঝুলে যায় পান্দু। এখন কোন ভাবেই নিজেকে মুক্ত করে সে। আর সামনে
10:58তাকিয়ে দেখে এটা কোন বাচ্চা নয় বরং একটা মহিলার ভূত যে জন্তুর মত হামাগুড়ি দিয়ে
11:03তার দিকে এগিয়ে আসছিল ভয়ঙ্কর ভাবে সত্যি বলতে এটা দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়ে
11:08গিয়েছিলাম আর এটা দেখে পান্দুর দৌড়ে পালাই এই অবস্থায় যদি আপনি পড়তেন তাহলে
11:13কি অবস্থা হতো কমেন্ট করে জানাবেন ওদিকে হাসপাতালের ভেতর নোভা আর তারা খুঁজে পায়
11:18সেই ইনচার্জের কঙ্কাল যার মাথায় ঝাড় বাতিটা পড়েছিল অর্থাৎ এটা বহু বছর আগের
11:23ঘটনা যা আমরা মুভির শুরুতেই দেখিয়েছিলাম সেখানে রাখা ক্যালেন্ডার দেখে তারা জানতে
11:27পারে হাসপাতালটা 2013 সাল থেকে ফাঁকা অর্থাৎ গত 10 বছর ধরে দেয়ালে তারা খুঁজে
11:33পায় একটা ছবি যাতে ছিল অনেক মানসিক রোগীর সাথে ডাক্তার ও নার্সরা অর্থাৎ শুরুতে যে
11:39দুর্ঘটনাটা দেখেছিলাম সেটা নিশ্চয়ই 2013 সালের আর মুভির বর্তমান সময় 2023 বা 24
11:45এর আশেপাশে তো ছবিটা দেখে নোভা দাড়াকে জানায় তার বাবা তাকে একবার বলেছিলেন
11:50ইন্দোনেশিয়ায় এমন অনেক দ্বীপ আছে যেগুলো আজও নথিভুক্ত নয় এমন দ্বীপগুলোতে খোলা
11:55হতো নথিবিহীন মানসিক প্রতিষ্ঠান যেখানে ধনী মানুষরা তাদের মানসিকভাবে অস্থির
12:00সন্তান বা আত্মীয়দের পাঠাতো কারণ তারা চাইতো না যে কেউ জানুক তাদের পরিবারের
12:05কারো সমস্যা রয়েছে নোবার মতে এই হাসপাতালটাও সেরকম একটা নতিবিহীন
12:09প্রতিষ্ঠান হবে হয়তো এবার তারা খুঁজে পায় হাসপাতালের একটা ম্যাপ সে নোভাকে
12:13একটা আইডিয়া দেয় তারা আর্কাইভ রুমে যাবে আর সে লাউডস্পিকার দিয়ে পান্দুকে ডেকে
12:18আনবে হাসপাতালের ভিতরে কিন্তু তার আগে তাদের যেতে হবে জেনারেটর রুমে কারণ সেখানে
12:22বিদ্যুৎ তো লাগবে তাছাড়া এটা তো 10 বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাই তারা সেই
12:27ম্যাপের একটা ছবি তুলে রাখে নিজের ফোনে। দুজনেই জেনারেটর রুমের দিকে যেতে থাকে। আর
12:31সেই মহিলার ভূতও তাদের সমানে অনুসরণ করে যাচ্ছিল। আয়নায় তার প্রতিবিম্ব স্পষ্ট
12:36দেখা পাচ্ছিলাম আমরা। যেটা আমাদের স্পেশাল একটা ক্ষমতা। এদিকে আমরা দেখি লাতি আর
12:41নিকিকে। যারা ভয়ে জঙ্গলে চলে এসেছিল। আর তারাও শুনতে পাচ্ছিল পান্দুর আওয়াজ।
12:46কিন্তু নিকি নিশ্চিত হতে পারছিল না যে এটা পান্দু কিনা। তাই দুজনে ফোনের লাইট বন্ধ
12:50করে চুপচাপ বসে থাকে। ঠিক তখনই শুনতে পায় চেইনের আওয়াজ। ওদিকে নোভা আর দারা আর্কাইভ
12:55রুম খুঁজে পেয়ে জেনারেটর রুমের দিকে যাচ্ছিল। পথে একটা ঘরে তারা দেখতে পায়
13:00কাউকে বিছানায় শুয়ে থাকতে। ঘরে ঢুকতেই আমরা দেখি তাদের পেছনে সেই মহিলার ভোটটাও।
13:04কিন্তু বিছানার কাছে গিয়ে দেখে সেখানে শুধু একটা বালিশ ছিল। দেখে হতবাক হয়ে
13:09যায় দুজনেই। বুঝে উঠতে পারে না তারা আসলে কি দেখেছিল। ঘরটা চেক করতে গিয়ে তারা
13:13দেখতে পায় দেয়াল জুড়ে অসংখ্য ছবি আঁকা। এবার দেখানো হয় মালার আরেকটা ফ্লাশব্যাক।
13:18একদিন মালা তার বাবার অফিসে ছবি কেটে দেয়ালে লাগাচ্ছিল। তখনই এসে পড়ে তার
13:22বাবা তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রচন্ড মারধর করেন। কিন্তু এতদিনের নির্যাতনে মালার
13:27মানসিক অবস্থা এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে সে তার ছবি কাটার কাঁচিটা
13:31দিয়ে তার বাবার গলায় বসিয়ে দেয়। স্বামীর চিৎকার শুনে নিচে আসেন মালার মা।
13:35দেখেন তার স্বামীকে রক্তে ভেসে মেজেতে পড়ে থাকতে। তার সামনেই মারা যান তিনি।
13:40মালা তখন সবটা দাঁড়িয়ে দেখছিল। নিজেই বুঝতে পারছিল না যে সে কি করে ফেলেছে।
13:44আবার গল্পটা ফিরে আসে বর্তমানে। নোভা আর দারা জেনারেটর রুমে দেখে জেনারেটর খালি
13:49হলেও পাশে রাখা ফুয়েল ট্যাঙ্ক ভর্তি ছিল। তারা জেনারেটরে জ্বালানি ভরে চালু করার
13:54চেষ্টা করে। প্রথমে তো চালু হয় না কিন্তু আবার চেষ্টায় সফল হয় তারা। সাথে সাথেই
13:58লাউডস্পিকারে বেজে ওঠে গান যা শুনতে পায় পান্দু, লাতি আর নিকি। লাতি আর নিকির
14:03সামনে দৌড়ে আসতে দেখা যায় পান্দুকে। কিন্তু নিকি বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে এটা
14:07সত্যিই পান্দু কিনা। ঠিক তখনই পান্দুর পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ে সে মহিলার আত্মা।
14:12নিকি বলে তারা তো জানেই না এই মহিলাকে। পান্দু নিজেকে বাঁচিয়ে সে গান অনুসরণ করে
14:17তাদের কাছে পৌঁছে যাবে কারণ সে খুব দৌড়ায় কিন্তু তার আগেই তাদের গানের পিছু
14:21নিতে হবে হয়তো সেখানে সাহায্য মিলবে আর তখনই পান্দুকেও বাঁচানো যাবে লাথি রাজি
14:26হয়ে যায় দুজনে গানের দিকে এগোতে থাকে পান্দু পেছনে তাকাতেই দেখে সামনে
14:30দাঁড়িয়ে সে মহিলার ভূত মানে লাথি আর নিকি চাইলে তাকে বাঁচাতে পারতো কিন্তু
14:35ভয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছিল পান্দু পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু মহিলাটা পেছন
14:39থেকে ধরে ফেলে থাকে টেনে নিয়ে ছুড়ে মারে একটা গাছের দিকে গাছের ধারালো ডালগুলো
14:44ঢুকে যায় তার বুকে সেখানেই মারা যায় পান্দু অর্থাৎ এই দ্বীপের আত্মা ততক্ষণে
14:48বেছে নিয়েছিল তার দ্বিতীয় শিকার ওদিকে নোভা আর দারা আর্কাইভ রুমে গিয়ে দেখে
14:52সেখানেও সিসিটিভির ক্যামেরা গুলো তখনো চালু ছিল লাতি আর নিকি হাসপাতালের মূল
14:57দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারা তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে নিকি আর লাতিকে ভেতরে নিয়ে
15:02আসে পান্দুর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই নিকি বলে সে মহিলায় হয়তো শেষ করে দিয়েছে তাকে
15:07এটা শুনে ভীষণ রেগে যায় লাতি জোরে একটা থাপ্পড় মারে নিকিকে কারণ নিকিই বলেছিল
15:12পান্দুর কিছুই হবে না মানে ভয় পেয়ে গিয়ে তাকে সেখানে ফেলে চলে এসেছিল নিকি।
15:16নোভা আর দারা লাতিকে শান্ত করে। তখনই লাতি সেই দেয়ালের ছবিটার দিকে ইঙ্গিত করে বলে,
15:21নৌকায় তারা যে মহিলাকে দেখেছিল যার কারণে জামাল মারা গিয়েছিল আর যে মহিলা
15:26পান্দুকেও মেরেছে সে একই মহিলা আছে এই ছবিতে। ঠিক তখনই বাইরে থেকে একটা আওয়াজ
15:31আসে। নোভা দরজা খুলতেই পান্দুর লাশ এসে পড়ে ভেতরে। এটা দেখে আরও বেশি করে কেঁদে
15:36ওঠে লাতি। কোন রকমে তাকে শান্ত করে তারা পান্দুর লাশ ঢেকে দেয়। এরপর তারা চেক করে
Ending Explained
15:40সেখানকার সিসিটিভির শেষ রেকর্ডিং। যা ছিল সেই দিনেরই যে দিন সে মহিলার ভূত সবাইকে
15:45মেরেছিল এমনকি ইনচার্জের মাথায় ঝাড় বাতিও ছুড়ে মেরেছিল এই ফুটেজে তারা দেখতে
15:50পায় সেদিন আসলে কি ঘটেছিল আর বুঝা যায় ছবির সেই মহিলা আসলে কোন মানুষই ছিল না
15:55এরপর আর্ব রুম থেকে তারা বের করে সে মহিলার ইতিহাস খুঁজে পায় তার ফাইলগুলো
16:00জানতে পারে এই মহিলার নাম ছিল মালা হ্যাঁ সে 13 বছর বয়সে এখানে এসেছিল মালা যখন
16:05তার বাবার গলায় কাঁচি বসিয়েছিল তারপরেই মৃত্যু হয় তার বাবার আর মালার মাই তাকে
16:10এখানে নিয়ে এসেছিল এরপর নোভা খুঁজে পায় মালার ফাইলের সাথে কিছু নিউজপেপার, কাটিং
16:14আর টেপ। হয়তো মালাও কোন ধনী পরিবারের সন্তান ছিল। টেপের গায়ে লেখা ছিল মালার
16:19কাউন্সিলিং। আর নিউজপেপারের কাটিয়ে ছিল মালার বাবার খুনের কথা। কিভাবে তার মেয়ে
16:24পাগল হয়ে নিজের বাবাকে খুন করেছিল? যদিও আমরা জানি আসল সত্যিটা কি ছিল। এরপর তারা
16:29টেপগুলো চালায়। প্রথম টেপে হাসপাতালের ইনচার্জ মালাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, কেন সে
16:34বাবাকে খুন করেছে। কিন্তু মালা কিছুই বলে না। উল্টো জিজ্ঞেস করে তার মা তাকে নিতে
16:39কখন আসবে? এরপর দেখানো হয় আরেকটা ফ্ল্যাশব্যাক। অনেক সময় পেরিয়ে গিয়েছিল
16:43কিন্তু মালার মা কখনো তাকে দেখতে আসেননি এমনকি তাকে বাড়িও নিয়ে যাননি তার বছরের
16:48পর বছর কেটে যায় এভাবে আর মালা তখন অপেক্ষা করছিল তার মায়ের অন্য রোগীদের
16:53মা-বাবাকে দেখলে তার হিংসা হতো রাগও হতো এভাবেই ধীরে ধীরে মানসিকভাবে আরো
16:58বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে এমনকি মালাও একদিন অন্য রোগীর উপর আক্রমণ করে বসে দ্বিতীয়
17:03টেপে দেখা যায় ইনচার্জ জিজ্ঞেস করছেন কেন সে এই রোগীর উপর হামলা করেছিল মালা বলে
17:08তার মা কেন দেখা করতে আসে না সে কবে বাড়ি যাবে ইনচার্জ তখন স্পষ্ট বলে দেয় তার মা
17:14তাকে নিতে কখনোই আসবেন না। কিন্তু মালা বলেন তার কাছে একটা উপায় আছে। সে যদি
17:18মারা যায় তাহলে তার মা নিশ্চয়ই তাকে দাফন করতে আসবেন। এ কথা শুনে ইনচার্জ আদেশ
17:23দেন মালাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে যাতে সে নিজেকে বা অন্য কাউকে আঘাত করতে না
17:28পারে। কিন্তু মালা স্পষ্ট বলে দিয়েছিল যদি সে মারা যায় তাহলে শুধু তার মাই যেন
17:33তাকে দাফন করে। এরপর এক রাতে নার্সরা মালাকে শিকল দিয়ে বেঁধে সেখান থেকে চলে
17:38যাওয়ার পর মালা নিজেই শিকল ভেঙে ফেলে। আর সেই শিকল গলায় পেঁচিয়ে নিজেকে শেষ করে
17:43দেয়। এই ফুটেজ দেখে সবাই ভীষণ ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে দ্বারা সে বলে মালার মা ছিলেন
17:48প্রকৃত অর্থেই নিষ্ঠুর। তিনি কখনোই মালাকে ফিরিয়ে নিতে আসতেন না। আর মালা এই আশাতেই
17:54জীবন দিয়ে দিয়েছিল যে অন্তপক্ষে তার দাফনের সময় যাতে তার মা আসে। একবার যাতে
17:59সে তার মাকে দেখতে পায়। বিষয়টা কতটা গভীর একবার চিন্তা করে দেখেন। একটা সন্তান
18:04তার মাকে দেখার জন্য কতটা পাগল হলে নিজেকে এভাবে শেষ করে দেয়। তো মুভির শুরুতেই
18:09ইনচার্জ যে মালার লাশ দাফনের কথা বলছিলেন আর সেই রোগী যে স্পষ্ট বলেছিল সে এখনো
18:14মরেনি নিশ্চয়ই সে তখন মালার আত্মাকেই দেখছিল এই কারণেই মালার আত্মা এতটা
18:19প্রতিশোধ পরায়ন আর ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল কারণ তার শেষ ইচ্ছা ছিল মা ছাড়া আর কেউ
18:24যেন তাকে দাফন না করে যেই ইনচার্জ আর নার্সরা তার লাশ দাফন করতে গিয়েছিলেন আর
18:29তার আত্মা তখনই সবাইকে শেষ করে দিয়েছিল আর সেই সাপ্লাই বোর্ডটার কথা মনে আছে
18:33বালিত পোতা যে লাশটা পাওয়া গিয়েছিল সেটাও নিশ্চয়ই তারই শিকারা সহজ কথায় এই
18:38দ্বীপে যত লাশ পাওয়া গেছে সবগুলোই মালার ওই কাজ। দারা তখন বলে যদি তাদের এখান থেকে
18:44জীবিত বের হতে হয় তাহলে মালার লাশ দাফন করতেই হবে। তাই নোভা আর দারা মর্গে চলে
18:49যায় মালার লাশ খুঁজতে। এদিকে নিকি আর লাতি যায় জেনারেটর রুমে বেলচা আনতে। নোভা
18:54আর দারা মালার লাশ খুঁজে পায়। লাতি জেনারেটর রুমে বেলচা খুঁজছিল এবং নিকি
18:59বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিল। মালার লাশ নিয়ে নোভা আর দারা আসতেই তারা নিকিকে
19:04বলে বেলচা নিয়ে তাড়াতাড়ি বাইরে আসতে। লাতি ভেতরে বেলচা খুঁজে না পাওয়ায় নিকি
19:08নিজেই ভেতরে ঢুকে খুঁজতে থাকে সে বেলচা নিয়ে বেরিয়েও আসে কিন্তু ঠিক তখনই ঘরের
19:13দরজা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় আর লাতি আটকে পড়ে ভেতরে সেখানে হাজির হয় মালার
19:18আত্মা লাতির কপালে বাগানের কাঁচি ঢুকিয়ে তাকে গেঁথে ফেলে দরজার সাথে লাতির এই
19:23অবস্থা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে যায় নিকি পালাতে চেষ্টা করে সেখান থেকে কিন্তু
19:27মালার আত্মা সেখানেও হাজির হয়ে যায় নিকিকে টেনে নিয়ে একটা ঘরে বন্দি করে
19:32দেয় অনেকক্ষণ ধরে নিকি আর লাতি বাইরে না আসায় নোবা আর দারা ভেতরে যায় আর লাতির
19:37লাশ দেখে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে দুজনেই তবু একে অপরকে সামলিয়ে তাড়াতাড়ি বেলচা তুলে
19:42বেরিয়ে যায় তারা এবং মালার লাশ দাফন করতে শুরু করে ওদিকে ভেতরে নিকি তখন
19:46বেরনোর চেষ্টা করছিল কিন্তু সব দরজা লক করা ছিল ঠিক তখনই হাজির হয় মালার আত্মা
19:52নিকি তাড়াতাড়ি সেখানে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারের ভাল্ব গুলো খুলে দেয় গ্যাস
19:56ভরতে শুরু করে চারদিকে নিকি লাইটার বের করে পুরো হাসপাতালটা উড়িয়ে দিতে যাচ্ছিল
20:01কিন্তু ঠিক তখনই মালার আত্মা তার চেইন দিয়ে নিকি থামিয়ে দেয় চেইনটা পেঁচিয়ে
20:06দেয় মালার মুখের চারপাশে। আর নিকির চোয়ালটা আলাদা করে দেয় তার শরীর থেকে।
20:10বাইরে নোভা আর দারা যেই মালার লাশ দাফন করে দেয় হাসপাতালের সব দরজা জানালা নিজে
20:16থেকেই খুলে যায়। তাদের মনে হয়েছিল হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু ঠিক তখনই
20:20মালা নোভাকে টেনে ভিতরে নিয়ে যায়। সব দরজা জানালা লক করে দেয়। জানালা দিয়ে তারা
20:26দেখতে পায়। মালার আত্মা নিকিকে খতম করে দিয়েছে। তখন সে মালার আত্মাকে বোঝানোর
20:31চেষ্টা করে সে জানে মা ছাড়া বেঁচে থাকতে কেমন লাগে। কারণ তারা নিজেও চায় তার
20:36মায়ের কাছে ফিরে যেতে। যিনি বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করছে। একথায় মালার আত্মার
20:41রাগ কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয়ে যায়। আর এই সুযোগেই চালাকি করে নোভা নিকির লাইটার
20:46তুলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। যাতে হয় বিশাল এক বিস্ফোরণ। তারা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে।
20:51আশ্চর্যের বিষয় তারা কিভাবে ভেবে নিল যে বিস্ফোরণে একটা আত্মা মরে যাবে। যাইহোক
20:57দেখা যায় জামাল যে রেডিও মেসেজটা পাঠিয়েছিল সেটা শুনে ফেলেছিল একজন জেলে।
21:02তারার বাবা-মায়ের বন্ধুদের সাথে সে পৌঁছে যায় এই দ্বীপে। আর যেহেতু এখানে ছিল অনেক
21:07লাশ তাই পুলিশকেও আসতে হয়। পুলিশ অফিসার তার কর্মীদের বলছিলেন 10 বছর আগে এই
21:12দ্বীপটা হঠাৎ গায়েব হয়ে গিয়েছিল। মানে এর আগে দ্বীপটা জিপি এসে দেখা যেত। এখানে
21:17মানসিক হাসপাতালটাও ছিল সচল। রোগী আসতো সাপ্লাই দিতে যেত মানুষ অর্থাৎ আগে এটা
21:23ভুতুলে ছিল না কিন্তু যখন মালা মারা যায় তখন থেকে তার আত্মা এই দ্বীপটা দখল করে
21:28নেয় সে সময় থেকে এটা হয়ে ওঠে তার ব্যক্তিগত জগৎ যখন ইচ্ছা সে তার শিকারকে
21:33ডেকে আনত এইখানে যখন ইচ্ছা দ্বীপটাকে হাজির করত মানুষদের সামনে মূলত এটা হয়ে
21:38উঠেছিল অন্য জগতের একটা পোর্টাল আর সেখানকার সব লাশই তাদের যারা কখনো এখান
21:43থেকে বাঁচতে পারেনি অর্থাৎ এই লাশগুলো কোনটা 10 বছর পুরনো আর কোনটা একদমই
21:48সাম্প্রতিক তো ঘটনা দেখানো হয় কিছুদিন পর। ধারার মা তার জন্য খাবার নিয়ে আসেন।
21:53আর এটা দেখে ভীষণ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন দারা। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে
21:58বলেন, তুমি আর কখনো আমাকে ছেড়ে যেও না। তারার মা ঘর থেকে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করতেই
22:03চমকে দেওয়ার মত একটা দৃশ্য দেখা যায়। দরজার উপর দেখা যায় ঠিক সেই একই ছবি। যা
22:08মালার ঘরের দেওয়ালে ছিল হাসপাতালে। আর তারাও এখন সেই একই ছবি একছিল। অর্থাৎ
22:14আশ্চর্যজনকভাবে দারার শরীরের ভেতর ততক্ষণে ঢুকে পড়েছিল মালার আত্মা। আমরা বুঝতে
22:19পারি সে এখন থেকে চিরকালের জন্য থেকে যাবে তার শরীরে। মালার আত্মা সবসময় খুঁজছিল
22:24একজন মা। আর সেটা সে পেয়ে গিয়েছিল দারার মায়ের মাধ্যমে। দারা শরীরে বাস করার
22:29সুযোগও পেয়ে যায় সে। মানে সে আজীবন এমন একটা মেয়েই খুঁজছিল, যার মাধ্যমে ওই
22:34দ্বীপ থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারবে। আর যখন তারা তার মায়ের কথা বলছিল, তখন ওই মালার
22:40আত্মা প্ল্যান করে ফেলেছিল যে সে তার শরীরে লুকিয়ে থেকে ওখান থেকে বেরিয়ে
22:44আসবে। আর পাবে মায়ের ভালোবাসাও। তো ভাই এই ছিল দ্যা ঘোস্ট আইল্যান্ড অর্থাৎ
22:49পোলাওহানু মুভির গল্প। গল্পটা শেষ হলেও কিন্তু মাথা থেকে মালার কথা যাচ্ছে না
22:54আমার। সে কোন জন্মগত সত্তা ছিল না। একটা ছোট্ট মেয়ে ছিল। আর এই বয়সেই ছোটখাটো
22:59ভুল করা তো স্বাভাবিক। বাচ্চাদের এসব ভুল শুধরে যদি আপনারা তাদেরকে মানুষ করতে নাই
23:04পারেন তাহলে বাচ্চা কেন নেন? সে মানসিক হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন
23:08অপেক্ষা করতো তার মা কখনো আসবে। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। কিন্তু তার মা আসেনি।
23:14শুধু একটাই স্বপ্ন ছিল তার। মরে গেলেও যদি মা একবার আসে সে আশায় নিজেই নিজেকে শেষ
23:20করে দিয়েছিল। তবুও মা আসেনি। কতটা নিষ্ঠুর হলে সন্তানদের সাথে মা এমন
23:24ব্যবহার করতে পারে। আসলে মালার শান্তি মিলতো তখনই যদি তার মা এসে তাকে দাফন
23:29করতেন। কিন্তু ততদিনে হয়তো তার মা মারা গিয়েছিল বা যেভাবে তিনি বা তার বাবা
23:34মালার সাথে ব্যবহার করতেন, হয়তো তার কথা মনেই ছিল না তার। তাই হিসেব করলে মালার
23:39আত্মার শান্তি পাওয়ার কথাই ছিল না কখনো। এটা কোন হরর মুভি না। এটা একটা শিশুর
23:43সবথেকে নিষ্ঠুর পরিণতি। আর সেই কষ্ট, সেই না পাওয়া, সেই রাগ সেটাই একদিন পরিণত
23:49হয়েছিল এমন কিছুতে যা পুরো একটা দ্বীপকে নরক বানিয়ে ফেলেছিল। আমি মালাকে দোষ দিতে
23:54পারছি না। রাগ হচ্ছে তার মায়ের উপর, তার বাবার উপর। সেই সিস্টেমের উপর যেটা একটা
23:59নির্যাতিত বাচ্চাকে আরো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তো ভিডিওটি যদি ভালো লেগে
24:04থাকে তাহলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করতে পারেন। দেখা হচ্ছে নতুন কোন গল্প নিয়ে।
24:08ততক্ষণ ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর সাবধানে থাকুন আল্লাহ হাফেজ।