Full transcript
Intro🎬
0:00আপনার হাতে যদি মাত্র 25,000 টাকা থাকে
0:03তাহলে সত্যি করে বলুন তো এই টাকা দিয়ে
0:05আপনি কি করবেন? একটা নতুন ফোন কিনবেন?
0:08ঘরের কোন পুরনো জিনিস বদলাবেন নাকি টাকা
0:11ব্যাংকে রেখে মাস শেষে এমন লাভের অপেক্ষা
0:14করবেন যেটা দিয়ে চায়ের বিলও ঠিকমতো উঠবে
0:17না। কিন্তু দাঁড়ান। এই 25,000 টাকা যদি
0:20আপনার গ্রামের মধ্যেই এমন একটা ব্যবসার
0:23শুরু হয় যেটা ধীরে ধীরে মাসে 50000 70000
0:27এমনকি ভালোভাবে চালাতে পারলে এক লাখ টাকার
0:30কাছাকাছি বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
0:32তাহলে কেমন হয়? শুনতে একটু বেশি ভালো
0:35লাগছে সেটাই স্বাভাবিক। কারণ গ্রামের
0:38বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসা বলতে এখনো বোঝেন
0:40মুদি দোকান, চায়ের দোকান অথবা বাজারে
0:43একটা ছোট্ট স্টল। কিন্তু সমস্যা হলো সবাই
0:46একই ব্যবসা করলে ক্রেতা আসবে কোথা থেকে?
0:49একই বাজারে পাঁচটা চায়ের দোকান থাকলে ষষ্ঠ
কেন সবাই একই ব্যবসা করলে চলে না? 🤔
0:52চায়ের দোকান খুলে আপনি কি জ্যাকপট পাবেন?
0:54সম্ভবত না। আসল খেলা হলো গ্রামে কি বিক্রি
0:58হচ্ছে সেটা দেখার চেয়ে গ্রামের মানুষ কি
1:01সমস্যায় পড়ছে সেটা খুঁজে বের করা। আজকের
1:04ভিডিওতে এমন পাঁচটি স্মার্ট গ্রামীণ
1:06ব্যবসার কথা বলব যেগুলোর কয়েকটি শুরু করা
1:09যায় প্রায় 25 হাজার টাকার আশেপাশের
1:11পুঁজিতে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার শেষের
1:14ব্যবসাটার জন্য আপনার বড় দোকান, বিশাল
1:16জমি কিংবা শহরে গিয়ে বসে থাকার দরকার
1:19নেই। শুধু গ্রামের একটা সাধারণ সমস্যাকে
1:21একটু বুদ্ধি করে ব্যবসায় পরিণত করতে হবে।
1:24তবে একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে দিই।
1:2725 হাজার টাকা দিয়ে এক মাসেই এক লাখ টাকা
1:29নিশ্চিত আয় হবে এমন কোন ম্যাজিক ব্যবসা
1:32পৃথিবীতে নেই। এখানে এক লাখ বলতে মূলত
1:35সম্ভাব্য মাসিক বিক্রয় বা ব্যবসার
1:37টার্নওভার বোঝানো হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে
1:39হাতে কত টাকা থাকবে সেটা ব্যবসার ধরণ
1:42বিক্রির পরিমাণ এবং আপনার পরিচালনার উপর
1:44নির্ভর করবে। কারণ ব্যবসায় সবচেয়ে
1:47বিপদজনক শব্দ হলো গ্যারেন্টি। চলুন এবার
1:50আসল খেলায় যাওয়া যাক। প্রথম ব্যবসাটি
1:52এমন যেখানে আপনার নিজের জমি না থাকলেও
1:55কৃষির সঙ্গে ব্যবসা করা সম্ভব। ব্যবসা
1:58নম্বর এক, কৃষি, ইনপুট ও ফসল সহায়তা
2:01সার্ভিস। ভাবুন গ্রামের একজন কৃষক তার
2:04জমিতে মরিচ লাগিয়েছেন। কয়েকদিন পর
2:06পাতায় সমস্যা দেখা দিল। তিনি কি করবেন?
2:09শহরে ছুটবেন? কৃষি অফিসে যাবেন নাকি পাশের
ব্যবসা ১: কৃষি ইনপুট ও ফসল-সহায়তা সার্ভিস 🌾
2:12দোকানে গিয়ে বলবেন ভাই এমন একটা ওষুধ দেন
2:14তো যেটা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। এখানেই
2:17সুযোগ। আপনি যদি কৃষকদের জন্য ছোট একটি
2:20কৃষি সহায়তা ব্যবসা তৈরি করেন তাহলে শুধু
2:22সার বা বীজ বিক্রি না করে তথ্য,
2:25প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ এবং বাজার সংযোগ
2:28সব একসঙ্গে দিতে পারেন। আপনার ছোট দোকানে
2:31থাকতে পারে বীজ, জৈব সার, কৃষি সরঞ্জাম,
2:34চারা, স্প্রে মেশিন ভাড়া দেওয়ার
2:36ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য মৌসুমী তথ্য।
2:40আরো স্মার্ট পদ্ধতি হলো নিজে বিশেষজ্ঞ
2:42সেজে কৃষকদের ভুল পরামর্শ না দিয়ে
2:45স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ বা
2:47নির্ভরযোগ্য কৃষি তথ্য ব্যবহার করে সেবা
2:49দেওয়া। কারণ কৃষি ব্যবসায় ভুল পরামর্শ
2:52মানে শুধু আপনার কাস্টমার হারানো নয় একজন
2:54কৃষকের ক্ষতিও হতে পারে। এখানে আপনার
2:57ব্যবসার আসল সম্পদ হবে দোকানের মাল নয়।
3:00বিশ্বাস ধরুন প্রথম মাসে 30 জন কৃষক আপনার
3:04কাছ থেকে নিয়মিত পণ্য নিলেন। প্রত্যেকে
3:07গড়ে 1500 টাকা করে পণ্য কিনলে বিক্রি
3:10দাড়ায় 45 হাজার টাকা। এর সঙ্গে যদি
3:13চারা, কৃষি সরঞ্জাম ভাড়া, মৌসুমী পণ্য
3:16এবং অন্যান্য সেবা যোগ হয় তাহলে বিক্রির
3:19পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
3:21বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা
3:23খাতকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কৃষি সেবা,
3:26বাজার সংযোগ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উপরও
3:28গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের 2026
3:31সালের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশী
3:33কৃষিভিত্তিক স্থানীয় উদ্যোক্তাদের
3:35কৃষকদের উপকরণ, পরামর্শ ও বাজার সংযোগ
3:38দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ
3:41কৃষক শুধু ফসল উৎপাদন করবেন আর আপনি শুধু
3:44দোকানে বসে থাকবেন এই পুরনো মডেল না। আপনি
3:47হতে পারেন কৃষকের সমস্যার সমাধানকারী। আর
3:50গ্রামে সমস্যা যেখানে ব্যবসার সুযোগও অনেক
3:53সময় শিখানি। এবার আসি দ্বিতীয় ব্যবসায়।
3:56ধরুন আপনার গ্রামের বাজারে প্রতিদিন
3:59প্রচুর দুধ আসে। কেউ দুধ বিক্রি করছে, কেউ
4:02দুধ কিনছে। কিন্তু দুধের দাম নিয়ে কৃষক
4:05খুশি না। আর ক্রেতাও সবসময় মান নিয়ে
4:07নিশ্চিত না। তাহলে মাঝখানে আপনি কি করতে
4:10পারেন? ব্যবসা নম্বর দুই, দুধ ও গ্রামীণ
4:14খাদ্যপণ্যের সংগ্রহ এবং ভ্যালু অ্যাডেড
4:16ব্যবসা। এখানে সরাসরি বড় ডেইরি ফার্ম
4:19করার কথা বলছি না। বরং ছোট পরিসরে দুধ
4:22সংগ্রহ করে নির্ভরযোগ্য ক্রেতার কাছে
4:24সরবরাহ করা অথবা বৈধ ও নিরাপদ খাদ্য
4:27প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দই, ঘি বা
ব্যবসা ২: দুধ ও গ্রামীণ খাদ্যপণ্য ব্যবসা 🥛
4:30অন্যান্য স্থানীয় পণ্য তৈরি ও বিক্রির মত
4:33মডেল নিয়ে কাজ করা যায়। ধরুন আপনার
4:36এলাকায় 10 জন খামারি আছেন। প্রতিদিন
4:38প্রত্যেকে যদি পা লিটার করে অতিরিক্ত দুধ
4:41দিতে পারেন তাহলে মোট 50 লিটার। আপনি যদি
4:43নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করতে পারেন তাহলে
4:46এখানে ছোট একটা সাপ্লাই চেইন তৈরি হয়ে
4:48গেল। কিন্তু এখানে একটা জিনিস খুব
4:50গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য ব্যবসায়
4:52পরিচ্ছন্নতা, মান, সংরক্ষণ এবং স্থানীয়
4:56নিয়ম কানুনকে কোনভাবেই হালকা করে দেখা
4:59যাবে না। কারণ একবার মানুষ বলল ওই দোকানের
5:02জিনিস ভালো না। তাহলে আপনার ব্যবসার
5:04অবস্থা হবে গ্রামের ওয়াইফাই এর মত। নাম
5:06আছে, কানেকশন নেই। প্রাক্টিক্যাল উদাহরণ
5:09হিসেবে ধরুন আপনি শুধু দুধ বিক্রি না করে
5:12স্থানীয় মিষ্টির দোকান, চায়ের দোকান,
5:14রেস্টুরেন্ট বা নির্ভরযোগ্য ক্রেতাদের
5:16সঙ্গে আগেই সরবরাহের চুক্তি করার চেষ্টা
5:19করলেন। এতে প্রতিদিন নতুন ক্রেতা খোঁজার
5:21চাপ কমে যায়। আর এখানেই ব্যবসার একটা বড়
5:24শিক্ষা আছে। আপনি যদি আগে ক্রেতা খুঁজে
5:27নেন তারপর পণ্য সংগ্রহ করেন তাহলে ঝুঁকি
5:30অনেক কমে। অন্যদিকে আগে পণ্য কিনে এনে পরে
5:32ক্রেতা খুঁজতে গেলে আপনার টাকা আটকে যেতে
5:35পারে। ব্যবসা মানে শুধু বিক্রি নয়, ক্যাশ
5:38ফ্লো বোঝাও ব্যবসার অংশ। এবার তৃতীয়
5:40ব্যবসা। এটা এমন একটি ব্যবসা যেটা গ্রামের
5:44প্রায় প্রতিটি পরিবারকে কোন না কোন ভাবে
5:46কাজে লাগতে পারে। ব্যবসা নম্বর তিন,
5:49ডিজিটাল সার্ভিস ও অনলাইন সহায়তা
5:51কেন্দ্র। এখন গ্রামে বসেও মানুষ মোবাইল
5:54ব্যবহার করছে। অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে
5:56হচ্ছে। ছবি, ডকুমেন্ট, প্রিন্ট, স্ক্যান,
5:59টাইপিং, আবেদন, টিকিট, বিভিন্ন ডিজিটাল
6:02সেবা সবকিছুর প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু
6:04সমস্যা হলো সবাই এসব কাজ নিজে করতে পারে
6:07না। কারো স্মার্টফোন নেই, কারো ইন্টারনেট
6:09আছে কিন্তু ব্যবহার করতে জানেন না। কারো
6:12আবার ফোন আছে কিন্তু পাসওয়ার্ড মনে নেই।
6:14এই জায়গায় ছোট্ট একটা ডিজিটাল সার্ভিস
6:17সেন্টার তৈরি করা যায়। শুরুতে আপনার
6:19প্রয়োজন হতে পারে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ,
6:21প্রিন্টার, ইন্টারনেট, কিছু কাগজকালি এবং
6:24একটি ছোট্ট জায়গা। সবকিছু একসঙ্গে কিনতে
6:27না পারলে আগে যেসব সেবা বেশি চাহিদার
6:29সেগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। ধরুন
6:31প্রতিদিন 20 জন কাস্টমার এলো। প্রত্যেকে
6:34গড়ে 50 টাকা করে বিভিন্ন সার্ভিসে খরচ
6:36করলে দৈনিক 1000 টাকা। 25 দিন কাজ করলে
6:4025,000 টাকা বিক্রি। এখন যদি প্রিন্ট,
6:43স্ক্যান, টাইপিং, ছবি, অনলাইন আবেদন
6:46সহায়তা এবং ব্যবসায়িক ডিজিটাল সেবা যোগ
6:49হয় তাহলে আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে
6:52এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোন সরকারি
6:55আবেদন, পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং বা
6:57গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যের কাজ করার
ব্যবসা ৩: ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার 💻
7:00সময় অনুমোদিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং
7:02কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে
7:05হবে। কারণ ডিজিটাল ব্যবসায় আপনার সবচেয়ে
7:08বড় পুঁজি কম্পিউটার না। বিশ্বাস। কেউ যদি
7:11আপনার কাছে তার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট
7:13নিয়ে আসে আর আপনি সেটা নিরাপদে রাখতে না
7:16পারেন তাহলে ব্যবসা শুরু হওয়ার আগেই শেষ।
7:19আর এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা কি
7:21জানেন? আপনি শুধু গ্রামের মানুষকে সার্ভিস
7:24দেবেন না। ধীরে ধীরে ডিজাইন, টাইপিং,
7:27পোস্টার তৈরি, ফেসবুক পেজ ম্যানেজমেন্ট,
7:29ছোট ব্যবসার ডিজিটাল প্রচারণা এইসব
7:31সার্ভিসও যোগ করতে পারে। মানে একই দোকান
7:34থেকে অফলাইন এবং অনলাইন দুই দিকের আয়।
7:37এখানে 25,000 টাকার পুরোটা একদিনে খরচ না
7:40করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বেশি
7:43বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ ব্যবসা শুরু করার
7:45আগেই কাস্টমারের চাহিদা পরীক্ষা করা গেলেই
7:48ভুল খরচ কমানো যায়। এবার আসি চতুর্থ
7:50ব্যবসায়। এটা একটু অন্যরকম। কারণ এখানে
7:53আপনি নিজের পণ্য তৈরি না করেও ব্যবসা করতে
7:56পারবেন। ব্যবসা নম্বর চার গ্রামের
7:59স্থানীয় পণ্যের অনলাইন ব্র্যান্ড। আপনার
8:02গ্রামে কি আছে? খাঁটি মধু, শুকনো খাবার,
8:06আচার, হস্তশিল্প, হাতের তৈরি পণ্য, মসলা,
8:10শুকনো মাছ, কাঁথা, বাঁশের তৈরি জিনিস অথবা
8:14এমন কোন স্থানীয় পণ্য যেটা শহরের মানুষ
8:17খুঁজে বেড়ায়। সমস্যা হলো পণ্য গ্রামে আছে।
8:21কিন্তু ক্রেতা শহরে। এখানেই আপনার কাজ।
8:24ধরুন আপনার এলাকায় একজন মানুষ খুব ভালো
8:27আচার বানান। আরেকজন ভালো মধু সংগ্রহ করেন।
8:31আরেকজন বাঁশের ঝুড়ি বানান। আপনি তাদের
8:34পণ্য সংগ্রহ করে একটি ছোট ব্র্যান্ড তৈরি
8:36করলেন। একটা নাম দিলেন সাধারণ কিন্তু
8:39সুন্দর প্যাকেজিং করলেন। তারপর ফেসবুক,
8:42WhatsApp বা অন্যান্য বৈধ অনলাইন মাধ্যমে
8:44প্রচার শুরু করলেন। এখানে আপনি আসলে পণ্য
8:47নয় গ্রামের গল্প বিক্রি করছেন। একটা
8:50পোস্টে যদি আপনি শুধু লেখেন মধু 800 টাকা।
8:53মানুষ হয়তো স্ক্রোল করে চলে যাবে। কিন্তু
8:55যদি বলেন শহরের ব্যস্ত জীবনের জন্য
8:58গ্রামের মৌ চাষীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা মধু
9:01তাহলে মানুষের কৌতুহল তৈরি হতে পারে।
9:04অবশ্যই যা সত্য নয় সেটা গল্প বানিয়ে বলা
9:06যাবে না। কারণ মার্কেটিং এ মিথ্যা বললে
9:09প্রথমেই অর্ডার আসতে পারে। পরে রিভিউ
9:11আসবে। আর সেই রিভিউ আপনার ব্যবসার জানাজা
9:15পড়ে দেবে।
9:16বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের
9:18বিভিন্ন অঞ্চলে এসএমই ক্লাস্টার বা
9:20উদ্যোক্তা গুচ্ছ রয়েছে যার মধ্যে কৃষি
9:23প্রক্রিয়া জাতকরণ ও অন্যান্য স্থানীয়
9:25উৎপাদন ভিত্তিক ব্যবসাও রয়েছে। অর্থাৎ
9:27স্থানীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করার
9:29ধারণাটি একেবারে নতুন নয়। এখন ধরুন আপনি
9:33500 টাকার একটি পণ্য 700 টাকায় বিক্রি
9:35করলেন। প্রতি পণ্যের 200 টাকা গ্রস
9:38মার্জিন। দিনে 10টি বিক্রি হলে 2000 টাকা
ব্যবসা ৪: স্থানীয় পণ্যের অনলাইন ব্র্যান্ড 🍯
9:40গ্রস মার্জিন। মাসে 25 দিন হলে 500 টাকা।
9:44এর সঙ্গে প্যাকেজিং, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপন
9:47এবং অন্যান্য খরচ অবশ্যই হিসাব করতে হবে।
9:50তাই এক লাখ টাকার বিক্রি আর এক লাখ টাকা
9:53লাভ এই দুটোকে কখনো এক মনে করবেন না।
9:56ব্যবসার হিসাব না জানলে ব্যবসা আপনাকে
9:58হিসাব শিখিয়েই ছাড়বে। আর এখন আসি শেষ
10:01ব্যবসায়। এই ব্যবসাটাই সম্ভবত সবচেয়ে
10:04আকর্ষণীয়। কারণ এখানে আপনার মূল সম্পদ
10:07হবে জমি নয়। আপনার মূল সম্পদ হবে সময়,
10:11সংগঠন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে
10:13সম্পর্ক। ব্যবসা নম্বর পাঁচ, গ্রামীণ
10:16সার্ভিস ও ডেলিভারি এজেন্সি। একটু ভাবুন
10:20গ্রামের একজন কৃষকের পণ্য বাজারে পাঠাতে
10:22হবে। কেউ শহর থেকে ওষুধ বা প্রয়োজনীয়
10:24জিনিস আনাতে চান। কেউ অনলাইনে কিছু অর্ডার
10:27করেছেন। কেউ একটা প্যাকেট অন্য ইউনিয়নে
10:29পাঠাতে চান। কেউ আবার বাজারে যাওয়ার সময়
10:32পান না। সব জায়গায় একটা সমস্যা। সময়।
10:35আর সময়ের সমস্যা সমাধান করা যায় সার্ভিস
10:38দিয়ে। আপনি ছোট্ট একটা স্থানীয় ডেলিভারি
10:41ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।
10:43শুরুতে নিজে বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেলে কাজ
10:45করতে পারেন অথবা এলাকার নির্ভরযোগ্য
10:47কয়েকজন ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে কাজ করতে
10:49পারেন। প্রথমে একটা ইউনিয়ন। তারপর দুইটা।
10:53তারপর কয়েকটা বাজার। ধরুন প্রতিদিন 30 টি
10:57ডেলিভারি হলো। প্রতি ডেলিভারিতে গড়ে 50
10:59টাকা সার্ভিস চার্জ ধরলে দৈনিক 1500 টাকা।
11:0325 দিন কাজ করলে 37,500 টাকা মোট সার্ভিস
11:07রেভিনিউ। এর সঙ্গে ব্যবসায়িক পার্সেল,
11:09স্থানীয় দোকানের নিয়মিত ডেলিভারি এবং
11:11অন্যান্য বৈধ সার্ভিস যুক্ত হলে পরিমাণ
11:14বাড়তে পারে। কিন্তু এখানেও একই কথা এটা
11:17কোন গ্যারান্টি যুক্ত আয় নয়। আপনার
11:20এলাকার জনসংখ্যা, দূরত্ব, প্রতিযোগিতা,
11:23ডেলিভারি চার্জ এবং কাস্টমারের চাহিদার
11:25উপর ফলাফল নির্ভর করবে। আরো স্মার্ট মডেল
11:28হতে পারে নিজের টাকা দিয়ে পণ্য কিনে
11:30বিক্রি না করে স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে
11:32পার্টনারশিপ করা। দোকানদার পণ্য বিক্রি
11:35করবে আপনি ডেলিভারি ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট
11:37করবেন। ফলে ইনভেন্টরিতে বড় অংকের টাকা
11:40আটকে রাখার প্রয়োজন কমে যায়। এখন একটু
11:42পিছনে ফিরে পাঁচটা ব্যবসাকে দেখি। প্রথমটি
11:46কৃষি, ইনপুট ও ফসল সহায়তা সার্ভিস।
11:49দ্বিতীয়টি দুধ ও গ্রামীণ খাদ্যপণ্যের
11:51সংগ্রহ ও ভ্যালু এডেড ব্যবসা। তৃতীয়টি
11:54ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার। চতুর্থটি
11:57স্থানীয় পণ্যের অনলাইন ব্র্যান্ড। আর
12:00পঞ্চমটি গ্রামীণ ডেলিভারি ও সার্ভিস
12:02এজেন্সি। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো 25,000
12:05টাকা থাকলে আপনি কোনটা শুরু করবেন? আমার
12:08উত্তর হবে যেটার জন্য আপনার এলাকায়
12:11ইতিমধ্যে কাস্টমার আছে। কারণ ব্যবসার
12:13প্রথম নিয়ম হলো কাস্টমার ছাড়া ব্যবসা
12:16শুরু করবেন না। আপনি যদি কৃষি এলাকায়
12:18থাকেন কৃষি সার্ভিস আপনার জন্য ভালো হতে
12:20পারে। আপনার এলাকায় যদি ডিজিটাল সেবার
12:22চাহিদা থাকে ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার ভালো
12:25হতে পারে। আপনার এলাকায় যদি ভালো
12:27স্থানীয় পণ্য থাকে অনলাইন ব্র্যান্ড হতে
12:29পারে বড় সুযোগ। আর যদি মানুষ ও
ব্যবসা ৫: গ্রামীণ ডেলিভারি ও সার্ভিস এজেন্সি 🛵
12:31দোকানদারদের মধ্যে পণ্য আদানপ্রদানের
12:34সমস্যা বেশি হয় ডেলিভারি সার্ভিস হতে
12:36পারে আপনার রাস্তা। একটা সহজ নিয়ম মনে
12:38রাখুন। 25,000 টাকা নিয়ে সরাসরি ব্যবসায়
12:41ঝাপ দেবেন না। প্রথমে তিনদিন শুধু ডাজার
12:44পর্যবেক্ষণ করুন। 20 জন সম্ভাব্য
12:46কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলুন। পাঁচজন
12:49দোকানদারের সঙ্গে কথা বলুন। তারপর দেখুন
12:51মানুষ আসলে কোন সমস্যার জন্য টাকা দিতে
12:54রাজি। তারপর 25,000 টাকা তিন ভাগে ভাবুন।
12:57এক ভাগ ব্যবসার মূল কাজে, এক ভাগ
13:00প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা স্টকে আর একটা অংশ
13:03জরুরি রিজার্ভে। সব টাকা প্রথম দিনেই খরচ
13:06করে ফেলবেন না। কারণ ব্যবসার সবচেয়ে
13:09ভয়ঙ্কর দিন হলো সেইদিন যেদিন আপনার
13:11কাস্টমার আছে কিন্তু তার অর্ডার দেওয়ার
13:13পর পণ্য কেনার টাকা নেন। আর একটা বিষয়
13:16খুব গুরুত্বপূর্ণ। 25,000 টাকা দিয়ে এক
13:19লাখ টাকার বিক্রি করা সম্ভব কিনা সেটা
13:21নির্ভর করবে ব্যবসার মডেলের উপর। কিন্তু
13:2425,000 টাকা দিয়ে এক লাখ টাকা লাভ করা
13:27যাবে এমন কথা শুনলে একটু সাবধান হবেন।
13:30কারণ ব্যবসায় বিক্রি আছে তারপর খরচ আছে।
13:33তারপর পরিবহন আছে, প্যাকেজিং আছে, বিদ্যুৎ
13:36আছে, ক্ষতি আছে, ফেরত আছে। আর সবশেষে আছে
13:40লাভ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের
13:43সাম্প্রতিক আলোচনাগুলোতেও সিএমএসএমই খাতের
13:46জন্য অর্থায়ন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং
13:48ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের গুরুত্ব উঠে
13:51এসেছে। তাই ছোট ব্যবসা মানেই ছোট সুযোগ
13:54এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। তবে বড় ব্যবসা
13:57করার আগে ছোট ব্যবসার হিসাব শিখতে হবে। আজ
14:00500 টাকা বিক্রি। কাল 800 টাকা তারপর
14:041200। এইভাবে কাস্টমার বাড়াতে হবে।
14:07একদিনে লাখ টাকা নয় প্রতিদিন একটু করে
14:10সিস্টেম বড় করা। এই হলো আসল খেলা। আর
14:14এখানেই মানি ফর ওয়ার্কের মূল কথা। টাকা
14:17শুধু পুঁজি দিয়ে তৈরি হয় না। টাকা তৈরি
14:20হয় সমস্যা খুঁজে সমাধান দিয়ে এবং সেই
14:23সমাধান বারবার বিক্রি করতে পারলেন। আপনার
14:26গ্রামের যেই জায়গাটাকে আপনি এতদিন সাধারণ
14:29মনে করেছেন সেখানেই হয়তো আপনার সবচেয়ে
14:31বড় ব্যবসার সুযোগ লুকিয়ে আছে। আপনি
14:34হয়তো ভাবছেন আমার তো দোকান নেই। সমস্যা
14:37নেই। আমার তো জমি নেই। সব ব্যবসার জন্য
14:40জমি লাগে না। আমার তো অনেক টাকা নেই। সব
14:44ব্যবসার শুরুতে অনেক টাকা লাগে না। কিন্তু
14:47একটা জিনিস লাগবে। মানুষ কি চায় সেটা
14:51বোঝার ক্ষমতা। কারণ শহরে যে ব্যবসা চলে
14:54সেটা আপনার গ্রামে নাও চলতে পারে। আবার
14:56শহরে যে জিনিস কেউ গুরুত্ব দেয় না সেটাই
14:59আপনার গ্রামের মানুষের জন্য বিশাল সমস্যা
কোনটা আপনার জন্য সঠিক? 🎯
15:01হতে পারে। আর যে মানুষ সেই সমস্যার সমাধান
15:04করতে পারে মানুষ তাকে টাকা দিতে রাজি
15:07থাকে। তাই আগামীকাল থেকে শুধু রাস্তা
15:10দিয়ে হাঁটবেন না আপনার গ্রামের বাজারটা
15:12দেখবেন অন্য চোখে কোথায় মানুষ লাইন
15:15দিচ্ছে কোথায় মানুষ বারবার যাচ্ছে কোন
15:18পণ্যের জন্য শহরে যেতে হচ্ছে কোন কাজের
15:21জন্য মানুষ অন্যের সাহায্য নিচ্ছে কোন
15:24জিনিসের চাহিদা আছে কিন্তু ভালো সার্ভিস
15:26নেই এই পাঁচটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেলতে
15:29পারলে হয়তো আপনার 25 হাজার টাকার চেয়েও
15:32বড় একটা সম্পদ খুঁজে পাবেন সেটা হলো
15:34ব্যবসার সুযোগ আর মনে রাখবেন 25,000 টাকা
15:38আপনার ভাগ্য বদলাবে না। আপনি 25,000 টাকা
15:41কিভাবে ব্যবহার করছেন সেটাই আপনার ভবিষ্যৎ
15:44বদলাতে পারে। তাই টাকা হাতে নিয়ে শুধু
15:46ভাববেন না কি কিনব। ভাবুন কোন সমস্যার
15:50সমাধান বিক্রি করব। কারণ পণ্য সবাই বিক্রি
15:53করে। স্মার্ট উদ্যোক্তা বিক্রি করে
15:56সমাধান। এটাই ছিল আজকের মানি ফর ওয়ার্কের
15:59পাঁচটি গ্রামীণ স্মার্ট ব্যবসা। এখন আপনার
16:02পালা। আপনি যদি গ্রামে থাকেন এবং হাতে
16:0525,000 টাকা থাকে তাহলে এই পাঁচটার মধ্যে
16:08কোন ব্যবসাটা আপনার এলাকায় সবচেয়ে ভালো
16:11চলবে বলে মনে করেন? কমেন্টে শুধু ব্যবসার
16:13নামটা লিখে জানান। আর পরের ভিডিওতে আপনি
16:16কোনটা চান? অপশন এক, মাত্র 100,000 টাকা
16:19দিয়ে শুরু করা যায় এমন 10টি ব্যবসা নাকি
16:22অপশন দুই, শূন্য টাকা থেকে ব্যবসা শুরু
16:24করার বাস্তব 30 দিনের প্ল্যান। আপনার
16:27পছন্দটা কমেন্টে জানিয়ে দিন। কারণ আজকের
16:29ভিডিওতে আমরা শুধু পাঁচটা ব্যবসার কথা
শেষ কথা ও পরের ভিডিওর প্রশ্ন 🎬
16:31বলেছি। কিন্তু পরের ধাপে আসল প্রশ্ন হবে
16:34এই ব্যবসাগুলোর মধ্যে কোনটায় কত টাকা
16:37লাগবে, কোথা থেকে কাস্টমার আসবে, কিভাবে
16:39প্রথম 10 জন কাস্টমার পাওয়া যাবে এবং
16:41কিভাবে ছোট ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বড় করা
16:44যায়? আর সেই জায়গাটাই আসল মানি ফর ওয়ার্ক।
16:47এখানে শুধু টাকা আয় করুন বলা হয় না। টাকা
16:50কিভাবে কাজ করানো যায় সেটাই শেখানো হয়।
16:53তাই আজ 25,000 টাকা আপনার হাতে থাকুক বা
16:56না থাকুক একটা জিনিস আজ থেকেই শুরু করুন।
17:00আপনার আশেপাশের মানুষের সমস্যা খুঁজতে
17:02শুরু করুন। কারণ হয়তো আপনার গ্রামের
17:05পাশের বাড়ির মানুষটাই আগামী দিনের
17:07কাস্টমার। আর আপনি এখনো তাকে শুধু
17:10প্রতিবেশী ভেবে বসে আছেন। মানি ফর
17:12ওয়ার্কের সঙ্গে থাকুন। কারণ পরের সুযোগটা
17:15হয়তো আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে নয়। আপনার
17:18নিজের গ্রামের বাজারেই অপেক্ষা করছে।