Full transcript
0:00কব্জি কাটা গ্রুপ লারা দে লও ঠেলা কিংবা
0:03কোপাইয়া দে নামগুলো শুনলে প্রথমে মনে
0:06হইতে পারে কোন ফেসবুক মেম পেইজ বা টিকটক
0:09চ্যানেলের নাম কিন্তু একদম বাস্তব জীবনে
0:12বাংলাদেশের এই গ্যাংগুলার কাজ কারবার
0:14ব্রেকিং ব্যাডের মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেল
0:17কিংবা ইতালির সিসিলিয়ান মাফিয়াদের চেয়ে
0:20কম ভয়ঙ্কর কিছু না এরা ছিনতাই করে
0:23চাঁদাবাজি করে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ
0:26নেয় আর তুচ্ছ ঝামেলা থেকে মানুষ পর্যন্ত
0:29পর্যন্ত খুন করে ফেলে। আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর
0:33ব্যাপার কি জানেন? এদের অনেকের বয়স 18
0:36হয় নাই। কেউ স্কুলে পড়ে, কলেজে পড়ে।
0:39কিন্তু হাতে থাকে দামি ফোন, বাইক কিংবা
0:43কখনো অস্ত্র। অনেক সময় তাদের পিছনে থাকে
0:46এলাকার এমন বড় ভাই বা রাজনৈতিক নেতা যারা
0:49ওদেরকে পালে, যাদের কারণে বড় অপরাধ করেও
0:53তারা বারবার বেঁচে যায়। খুনের আসামী
0:56জামিন নিয়ে জেলের বাইরে দিব্য ঘরে। আর
0:58এলাকা ছেড়ে ভয়ে পালাইতে হয় যাকে মারা
1:01হইছে তারই পরিবারকে কয়েকদিন আগেই দেখলেন
1:04না ক্লাস সেভেনের পরে মাত্র একটা 13 বছর
1:07বয়সী বাচ্চা ছেলে ইশিয়াদ শাহরিয়ার
1:10অপ্রতিম কিশোর গ্যাং এর হাতেই নিহত হইছে
1:13প্রশ্ন হইতেছে একটা 13 বছরের বাচ্চা এই
1:15গ্যাংয়ের মানুষদের সাথে মিশল আর জিনিসটা
1:17খুন পর্যন্ত গড়াইল মানে কেমনে ভাই স্কুল
1:21কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা কেন এসব গ্যাংয়ে
1:23যায় শুধু টিকটক বাইক আর শো অফ নাকি এর
1:27পিছনে পরিবার টাকা রাজনীতি আর পুরা একটা
1:30সিস্টেম কাজ করে যেইটাকে ক্ষমতার গতিতে
1:33বসা বড় বড় রুই কাতলারা নিজেদের
1:35প্রয়োজনেই টিকা রাখতে চায় আজকের ভিডিওতে
1:38আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবো তো চলেন
1:40শুরু করা যাক সবার প্রথমে কিশোর গ্যাং
1:43জিনিসটা কি 18 বছরের কম বয়সী কিশোররা যখন
1:47দল বাইধা একসাথে অপরাধমূলক কাজ করতেছে সেই
1:50গ্রুপটাকে আপনি কিশোর গ্যাং বলবেন তবে
1:52সবার বয়স যে 18র কম এমন না 18র বেশি
1:56বয়সীরাও এইসব গ্যাং যুক্ত থাকতে পারে।
1:58এরা মেনলি এলাকা ভিত্তিক কাজ করে। এলাকার
2:00মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিন্তাই এইসব
2:03নিয়ন্ত্রণ করে। পরিচয় দেওয়ার জন্য খুবই
2:05আজগুবি কিছু নামও রাখে এরা। যেমন লেভেল
2:08হাই, কোপাইয়াদে, ফিল্ম ঝিরঝির, ভাইপার,
2:12তুফান, ভলিউম টু। এইগুলো হইতেছে ঢাকা শহরে
2:15চলা কয়েকটা কিশোর গ্যাং এর নাম। 2024
2:17সালের এক হিসাব। ঢাকাতেই এইরকম কিশোর
2:20গ্যাং আছে প্রায় 127 টা। সারাদেশের
2:22হিসাবে 237 টা। যদিও এগুলা সরকারি হিসাব।
2:26বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে
2:28আপনি তো জানেনই এবার শুরুতেই কুমিল্লায়
2:30অপ্রতিমের কেসটা আমরা একটু দেখি বর্তমানে
2:32কুমিল্লায় প্রায় 20 টার মতন কিশোর গ্যাং
2:35একটিভ এই বছরের গত আট মাসে অন্তত 25 টা
2:38সিরিয়াস ক্রাইমে এদের নাম আসছে আর
2:41সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে কিশোর গ্যাং এর
2:43হাতে নিহত হয় 13 বছর বয়সী ইরশাদ
2:45শাহরিয়ার অপ্রতিম তাকে মারার মেইন আসামি
2:48যে সাইফুল ইসলাম তুহিন সেও কিন্তু নিজস্ব
2:50একটা গ্যাং তৈরিরই চেষ্টা করতেছিল এই
2:53তুহিনের কাজ ব্যাখ্যা করলেই বাংলাদেশে
2:55কিশোর গ্যাং কেমনে চলে সেটা আপনি বুঝে
2:57যাবেন। প্রথমে এরা টিকটক ভিডিও বা ফেসবুক
3:00গ্রুপের মাধ্যমে এক হয়। এজন্য এরা টিকটক
3:03এ অদ্ভুত সব পোস্ট দেয়। যেমন আমি হাত ধরি
3:07ঠিকই কিন্তু বুক মিলাই না। সময় পাইলে
3:10ভইরা দিমু। তুই টেরও পাবি না। এই টাইপের
3:12রিলস। অনেক সময় এরা টিকটক এর কয়েক
3:15সেকেন্ডের ভিডিওতে নিজেদের অস্ত্রের শো অফ
3:17করে। সাথে বাইক আর আইফোন দেখাইয়া শো অফ
3:20করা তো আছেই। এদের অনেকের পরিবারের আর্থিক
3:23অবস্থা কিন্তু ভালো না। মনে করেন না সবাই
3:24খুব বড়লোক। তাও এরা দামি মোটরসাইকেল
3:27চালাবে। হাতে দামি আইফোন থাকবে। এরকম
3:29বিলাসী লাইফ স্টাইল ওদের কেমনে হয়?
3:31ছিনটাই মাদক পাচার এরকম আরো বিভিন্ন
3:34ক্রাইমে এরা জড়ায়। অপ্রতিমের কেসের
3:36আসামি তুহিনের বিরুদ্ধে বাইক চুরির অভিযোগ
3:38আছে। ফেসবুকে আসাদুল্লাহ সোহাগ নামে একজন
3:41জানান, 2025 সালে এই তুহিন তার বাইক চুরি
3:44করে। পরে উনি মামলা করছেন কিন্তু পুলিশ
3:46তেমন কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। আমাদের দেশের
3:48বাইক চুরি আর ফোন চিন্তা এর বড় একটা অংশ
3:51হইলো এই কিশোর গ্যাং। শুরুর দিকে ছোটখাটো
3:53অপরাধ করে ওরা পার পাইয়া যায়। সাহস
3:56বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এদের অপরাধের
3:58মাত্রাও বাড়তে থাকে। আর এরা আস্তে আস্তে
4:00আরো নতুন মানুষদের অ্যাড করে। আস্তে আস্তে
4:03রেডি হয় এক একটা কিশোর গ্যাং। আচ্ছা,
4:06অনেকক্ষণ তো মারামারি নিয়ে কথা হইলো। এখন
4:09একটু পড়াশোনা নিয়ে কথা বলি। একটা ভালো
4:11রিসার্চ পেপার যে শুধু ডিগ্রীর জন্য
4:13গুরুত্বপূর্ণ এমন না। এইটা বিদেশের
4:15স্কলারশিপ, হায়ার স্টাডি এমনকি
4:17চাকরি-বাকরির দরজাও খুলে দেয়। যাদের পেপার
4:20স্ট্রং তাদের রেজিউমের ভ্যালু বাড়ে
4:22প্রফেসররা অনেক সময় নিজেরাই তাদের
4:25রিকমেন্ড করে। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা
4:27বেশিরভাগই একেবারে শেষ সেমিস্টারে এসে
4:30রিসার্চ শুরু করি। আমরা অনেক ভুল করি
4:32আমাদের পেপার রিজেক্টেড হয়। তাই
4:34বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীনই আপনার পড়াশোনা
4:36শুরু করতে হবে রিসার্চ বা গবেষণা নিয়ে। আর
4:39আপনাদের এই শুরুর পথটা সহজ করে দিতে আমি
4:42আয়োজন করছি তিন দিনের লাইভ রিসার্চ
4:44ওয়ার্কশপ। যেখানে আমি সরাসরি দেখাবো আমি
4:47নিজে কিভাবে রিসার্চ করি। শুধু স্লাইড বা
4:50লেকচার না একেবারে রিয়েল ওয়ার্ল্ডের
4:52ডেমোনস্ট্রেশন আপনি দেখবেন। আপনাদের সাথে
4:54আমি লাইভ ইন্টারেক্ট করব। আপনাদের
4:56প্রশ্নগুলো শুনবো। আর পরবর্তী তিন মাসে
4:58আপনাদের ফলোআপ যত প্রশ্ন আছে সেই
5:00সাপোর্টটা আপনাকে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
5:02তাই এখনই জয়েন করেন বিস্তারিত পিন
5:05কমেন্টে। কিন্তু বাংলাদেশে একটা ছোটখাটো
5:07কিশোর গ্যাং কিভাবে ভয়ঙ্কর এক অপরাধীর
5:11নেটওয়ার্কে পরিণত হয় এটা যদি আপনি বুঝতে
5:13চান বরগুনার রিফাতকে মারার কেসটা আপনার
5:16দেখতে হবে 26শে জুন 2019 বরগুনা সরকারি
5:19কলেজের সামনে খুন হন রিফাত শরীফ তার
5:21একসময়ের বন্ধুই তাকে মারে নাম নয়ন বন্ড
5:25দ্বন্দটা ছিল তার স্ত্রী মিন্নিকে নিয়ে
5:27সেদিন দিন দুপুরে সবার সামনে রিফাতকে
5:30কুপিয়ে মেরে ফেলে নয়ন বন্ড এবং তার
5:32গ্যাং মেম্বাররা বরগুনের মতন একটা ছোট
5:35শহরে কিভাবে সবার সামনে একজনকে মেরে ফেলা
5:38সম্ভব? কিভাবে হত্যাকারীরা এতটা সাহস
5:40পায়? এটা নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়, ওই
5:42সময় বরগুনা এক আসনের এমপি ধীরেন্দ্র
5:45দেবনাথের ছেলে সুনাম দেবনাথের নাম চলে
5:48আসে। এক ডটের সাথে আরেক ডট মিলান। ওই সময়
5:51আওয়ামী লীগ আমল। এক রিফাতকে মেরে ফেলা
5:53থেকে শুরু করে সুতা টানতে টানতে এমপির
5:55ছেলে পর্যন্ত গেলাম সুনাম দেবনাথের কাছে।
5:58আওয়ামী লীগ তো এককভাবে ক্ষমতায় তখন এই
6:00জন্য কমবেশি সব জায়গায় লীগ কয়েকটা
6:03গ্রুপে ভাগ ছিল। বরগুনা জেলাতেও আওয়ামী
6:05লীগের মধ্যে কয়েকটা গ্রুপিং ছিল এই
6:07গ্রুপগুলোর মধ্যে একটা গ্রুপ ছিল এমপি
6:09ধীরেন্দ্র দেবনাথের বাপের গ্রুপ এইটার যে
6:11আধিপত্য সেটা ধইরা রাখতে বরগুনার যে
6:14সন্ত্রাসীরা ছিল তাদের সঙ্গে খাতির রাখতেন
6:16ছেলে সুনাম দেবনাথ তার সাথেই ওঠাবসা ছিল
6:19রিফাতকে মেরে ফেলার প্রধান আসামী নয়ন
6:21বন্ডের এলাকার মাদক ব্যবসা ছিনতায়
6:23চাঁদাবাজি চলতো নয়ন বন্ডের গ্যাং বন্ড
6:26007 এর মাধ্যমে এও দেখেন জেমস বন্ডের
6:29ফ্যান ফেসবুক আর মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এই
6:31গ্যাং চলতো মেসেঞ্জারেই তারা রিফা কে
6:34দুনিয়া থেকে সরানোর প্ল্যান করে। ঘটনার
6:36পরে দেখা যায় 23 আসামির মধ্যে 14 আসামি
6:39কিশোর। অনেকে তখনো পড়াশোনা করতো স্কুলে।
6:41এর থেকে আপনি পুরো আইডিয়া পাবেন কিশোর
6:43গ্যাং কেমনে অপারেট করে। সবার প্রথমে
6:46এলাকার রাজনৈতিক নেতারা তাদের নিজেদের
6:48প্রভাব বৃদ্ধি করার জন্য ছেলেদেরকে নিয়ে
6:50একটা গ্রুপ তৈরি করে। তারপরে এরা মাদক
6:53ব্যবসা, ছিন্তনটাই, চাঁদাবাজির মতন অপকর্ম
6:55শুরু করে। এরা যখন ছোট ছোট অপরাধ করে
6:58নেতাদের আশীর্বাদের কারণে বারবার ছাড়া
7:00পায়া যায়। আস্তে আস্তে ওদের সাহসও
7:01বাড়তে থাকে। তারপর কারো সাথে যদি কোন
7:04ঝগড়াঝাটি হয় অন্য গ্রুপ মেম্বারদেরকে
7:06জানায় তারপরে দেখা যায় একটা তুচ্ছ ঘটনা
7:08নিয়ে খুনাখুনি পর্যন্ত চলে যায়। ঠিক এই
7:10জায়গায় একটা শব্দ বোঝা আপনার জন্য খুব
7:12দরকার। বড় ভাই 2024 সালে প্রথম আলোর একটা
7:15রিপোর্টে উঠে আসে ঢাকার কিশোর গ্যাংগুলাকে
7:18আশ্রয় দেন ঢাকার অন্তত 21 জন কাউন্সিলর।
7:21যেমন মিরপুরের সবচেয়ে বড় কিশোর গ্রুপের
7:23নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ নেতা নাবিল খানের
7:25মিরপুর মাজার থেকে গাপতলী বাস টার্মিনাল
7:28পর্যন্ত তাদের এলাকা ডিশ ওয়াইফাই এলপিজি
7:31এইসব ব্যবসা করতে হইলে তাদেরকে চাঁদা দিতে
7:33হবে এইরকম রিঙ্কু ভাস্কর আশিক ডিজে রোমান
7:36বাহিনী নামে আরো অনেকগুলো গ্রুপ মিরপুরে
7:39একটিভ মিরপুরের পরে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি
7:41কিশোর গ্যাং মোহাম্মদপুরে এমনিতো
7:43মোহাম্মদপুরে গেলে মানুষের মোবাইল মানি
7:45ব্যাগ নাই হয়ে যায় না তাই না গত এপ্রিলে
7:47মোহাম্মদপুরে অ্যালেক্স গ্রুপের নেতা
7:49অ্যালেক্স ইমন মোহাম্মদ আরেক গ্যাং আরমান
7:52শাহরুখ গ্রুপের হাতে নিহত হয়। এই দুই
7:54গ্যাং এর মধ্যে কি ঝামেলা চলতেছিল?
7:56মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকা কার
7:59দখলে থাকবে এইটা নিয়ে। তবে মোহাম্মদপুরে
8:01গাংচিল বাহিনী সবচেয়ে একটিভ। গাংচিল
8:04বাহিনীর সাথে সম্পর্ক কাউন্সিলর আসিফ
8:06আহমেদের। এইগুলা ছাড়াও কব্জি কাটা গ্রুপ,
8:08লড়া দে, লও ঠেলা, দে ধাক্কা এসব আজগুলি
8:12নামেও মোহাম্মদপুরে আরো কয়েকটা কিশোর
8:14গ্যাং আছে। এখন এইখানে একটা আপনাদের ভুল
8:16ধারণা থাকতে পারে। কিশোরগ সমস্যা বুঝি।
8:18ঢাকার মিরপুর মোহাম্মদপুরেরই সমস্যা। আসলে
8:20না সরকারি হিসাবে ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি
8:2457 টা কিশোর গ্যাং আছে চট্টগ্রামে। ঢাকার
8:26মতন চট্টগ্রামের গ্যাংগুলাকেও পাঁচ
8:29কাউন্সিলর সহ 64 জন বড় ভাই লালন-পালন করে
8:32বলে রিপোর্টে আসছে। প্রথম আলো রিপোর্ট বলে
8:34চট্টগ্রামে প্রায় 200 টার বেশি কিশোর
8:37গ্যাং একটিভ। চট্টগ্রামে প্রথম কিশোর
8:39গ্যাং বড় আলোচনায় আসে 2018 সালে। ওই বছর
8:42জামাল খান এলাকায় ক্লাস নাইনের ছাত্র
8:44আদনান ইস্পার্কে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা
8:47দুনিয়া থেকে সরায় ফেলে। ক্রিকেট আর
8:49ফুটবল খেলা নিয়ে ঝামেলা থেকে শুরু করে
8:51পাঁচজন মিলে তাকে শেষ করে ফেলে। খুনিদের
8:54সবার বয়সই কিন্তু 20 থেকে 30 বছরের
8:56মধ্যে। এরপর 2024 সাল পর্যন্ত ছয় বছরে
8:59চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সম্পর্কিত খুনি
9:02হয়েছে প্রায় 34 টা। এছাড়াও অন্য সব বড়
9:04শহরেই ওরাও একটিভ। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে
9:07বেশি 25 টা কিশোর গ্যাং আছে নোয়াখালীতে।
9:09আমি জানি আপনাদের মনে এখন প্রশ্ন
9:12বাংলাদেশে কিশোররা মিলে একটা গ্যাং তৈরি
9:14করবে। এই কনসেপ্টটা কবে থেকে আসছে? দেশের
9:17প্রথম পরিচিত কিশোর গ্যাংগুলার একটা ছিল
9:19ক্র্যাব বা কাকরা গ্রুপ। 2001 সালে ঢাকার
9:23উত্তরায় এর জন্ম। এরপর উত্তরা, গুলশান,
9:26ধানমন্ডি, মিরপুরে একই ধরনের আরো গ্রুপ
9:28তৈরি হয়। 2010 সালের দিকে এইসব আবাসিক
9:31এলাকার দেয়ালে গ্যাং জিরো নাইন স্টার,
9:34রিস্ক জোনের মত নাম লেখা দেখা যাইত।
9:37এইগুলো শুনে ছিল কিশোর গ্যাং এরই নাম।
9:39কিন্তু অনেক বছর এই জিনিসটা ছিল
9:41ব্যাকগ্রাউন্ডে। সিরিয়াসলি আলোচনায় আসে
9:432017 সালের জানুয়ারিতে যখন উত্তরায়
9:46ক্লাস এইট এর ছাত্র আদনান কবিরকে মেরে
9:49ফেলা হয় কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের দ্বারা
9:51তখন ডিস্কো বয়েজ আর নাইন স্টার গ্রুপের
9:53নাম সামনে আসে এরপর 2018 সালে চট্টগ্রামে
9:57আদনান খুন 2019 সালে বরগুনায় রিফাত খুন
10:00এই ঘটনাগুলার পরে কিশোর গ্যাং আর
10:02বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা থাকে নাই একটা জাতীয়
10:05সমস্যা হিসেবে সবার সামনে আসে এখন সবচেয়ে
10:08বড় প্রশ্ন 15 16 বছরের ছেলেগুলা এইসব
10:11গ্যাং কেন যাই কি ওদের ঠেকা পড়ছে 2025
10:14সালের একটা গবেষণা মিরপুরের 15 জন গ্যাং
10:17মেম্বার এবং 10 জন অভিভাবকের সাথে কথা বলা
10:20হয় সমস্যাটার পিছনে মূল তিনটা কারণ
10:23পাওয়া যায় নাম্বার ওয়ান পারিবারিক
10:25সমস্যা মিরপুরের কিশোর গ্যাং এর একজন
10:27মেম্বার প্রথমে সে গ্যাংয়ে জয়েন করতে
10:29চায় নাই কিন্তু ব্রেকিং ব্র্যাডের
10:31ওয়াল্টার হোয়াইট এর মতন তার মনে হয়েছে
10:32সবাই যাতে তাকে একটু গুরুত্ব দেয়
10:34গ্যাংয়ে জয়েন করার পর থেকে সে দেখে সেই
10:36গুরুত্বটা পাইতেছে এইটা ওরে অনেক ভালো ফিল
10:39করায় ডোপামিন রিলিজ করে মাথা থেকে।
10:41আরেকজন জানায় তার বাবা-মা খুব ব্যস্ত
10:43থাকতেন। এজন্য সে রাস্তাকেই তার অস্থায়ী
10:47বাড়ি বানায় ফেলছিল। সহজ কথায় তারা
10:49পরিবারে পর্যাপ্ত এটেনশন পায় নাই। এজন্য
10:52নিজে থেকে এমন একটা জায়গা খুঁজে বের করছে
10:55যেখানে তাকে এটেনশন দেওয়া হয়, গুরুত্ব
10:57দেওয়া হয়। অনেক সময় ওরা ক্ষমতারও একটা
10:59অনুভূতি পায়। যে কারণে বাসার তুলনায়
11:01কিশোর গ্যাং এর সঙ্গে সময় কাটানোটা ওরা
11:04বেশি এনজয় করে। এইখানে কেউ তার ভুল ধরবে
11:06না। সে যা মন চায় তা করতে পারবে। এই
11:09কারণে একবার যারা গ্যাংয়ে জয়েন করে সহজে
11:11তারা আর ফেরত আসে না। সেকেন্ড কারণ
11:13অর্থনৈতিক লাভ। গ্যাংয়ে কেন জয়েন করছে
11:16এটার কারণ হিসেবে একজন জানায় আগে একটা
11:19সময় সে বেশিরভাগ দিন তিনবেলা খাবার খাইতে
11:22পারত না। তখন গ্যাং তাকে বলে আমি তোমাকে
11:24100 থেকে 150 টাকা প্রতিদিন দিব। সে খুশি
11:27মতন গ্যাংয়ে এ জয়েন করে। অন্তত দৈনিক
11:29তিনবেলা খাবার তো পাইতেছে। অনেকের তিনবেলা
11:32খাওয়ার সমস্যা নাই। তার পরিবার যথেষ্ট
11:34সচ্ছল। অনেকে নিজের হাত খরচের টাকাটা
11:36ম্যানেজ করতে গ্যাং এ জয়েন করে মানে
11:38শর্টকাটে টাকা আয় করার একটা সিস্টেম আর
11:40কিশোর গ্যাং তৈরি হইলে শুধুমাত্র গ্যাং এর
11:43মেম্বাররাই যে টাকা আয় করে ব্যাপারটা এমন
11:45না এলাকার রাজনৈতিক নেতারাও এদেরকে
11:48ব্যবহার করে নিজেদের অবৈধ টাকা আয়ের জন্য
11:50যেমন এদেরকে দিয়ে হকার রিক্সাচালক ছোট
11:53ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে
11:55রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও কিশোর গ্যাং এর সাথে
11:58খুব বিশেষ সম্পর্ক আছে রিয়েল স্টেট
12:00ব্যবসায়ীদের বড় কোন আবাসিক এলাকা তৈরি
12:02করার জন্য প্রায় সময় দেখবেন বস্তি খালি
12:05করা লাগে। তখন তারা বস্তিতে থাকা
12:07মানুষগুলাকে ভয় দেখায় এই গ্যাংগুলার
12:09মাধ্যমে। এছাড়া ধরেন সরকারি জমি বা কোন
12:12জমিতে ঝামেলা আছে। এই জমিগুলা দখল করার
12:14জন্য ওদেরকে ইউজ করা হয়। অনেক সময় তাদের
12:17মাধ্যমে অবৈধভাবে অন্যের জমি দখলও করা
12:20হয়। আর এই রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ীরা
12:22সবাই কমবেশি পলিটিক্যালি কানেক্টেড। আর
12:25এইখানেই আসে বাংলাদেশের কিশোর গ্যাংগুলা
12:27এত বড় হওয়ার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
12:30কারণ রাজনৈতিক আশ্রয়। মিরপুরের এক কিশোর
12:33গ্যাং এর সদস্য জানায় এলাকার প্রভাবশালী
12:35রাজনৈতিক নেতার সাথে যদি তার যোগাযোগ থাকে
12:37কোন অপরাধ করলেও পুলিশ তার তদন্ত বা
12:40জিজ্ঞাসাবাদ করে না পলিটিক্যাল ব্যাকআপ
12:43থাকলে বাংলাদেশে যে বিভিন্ন জায়গায় আপনি
12:44সুবিধা পাইতে পারেন এইটা তো আর আলাদা করে
12:46ব্যাখ্যা করতে হবে না এই কারণে অনেকেই
12:48কিশোরগং এ জয়েন করার মোটিভেশন পায়
12:51বন্ধুদের সামনে শো অফ করে বলল আমার
12:53অভিভাবক তো অমুক স্পেশালি স্কুল কলেজের
12:56ছাত্ররা সবার সামনে নিজেকে পাওয়ারফুল
12:58দেখানোর জন্য কিশোর গ্যাংদের সাথে সম্পর্ক
13:00রাখে আপনারা তারা যারা আবেশাম মুভিটা
13:03দেখছেন তারা আরো বেটার বুঝতে পারবেন এই
13:04জিনিসটা আবার অনেকে অপরাধ থেকে বাঁচার
13:07জন্য কোন নেতার অধীনে এইসব গ্যাংয়ে জয়েন
13:10করে একটা উদাহরণ দিলে ভালো বুঝতে পারবেন
13:12ভিডিওর একদম শুরুতে উত্তরার স্কুল ছাত্র
13:15আদনানকে মেরে ফেলার কথা বলছিলাম না আমি এই
13:17মামলায় কয়জন গ্রেফতার হয়েছিল জানেন
13:20টোটাল 26 জন দুইটা কিশোর গ্যাং ডিস্কো
13:23বয়েজ আর নাইন স্টার গ্রুপ আমাকে এখন বলেন
13:25তো এরা কোথায় আছে জানলে হয়তো সারপ্রাইজড
13:28হবেন না এরা এখন জেলে নাই 2024 24 সালে
13:31প্রথম আলোকে নিহত আদনানের বাবা জানান, এরা
13:34সবাই এখন জামিনে মুক্ত। উল্টা আদনানের
13:37বাবাই ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখন
13:40চিন্তা করেন এই দুই কিশোর গ্যাং
13:42মেম্বারদের সাহস এখন কি পরিমাণে বাড়বে?
13:44আমরা ধরেন গালি দিতেছি পুলিশকে। পুলিশ তো
13:46ওদেরকে গ্রেফতার করল। কিন্তু জামিনটা কারা
13:49দিল? কয়েকদিন আগে কুমিল্লার এসপি
13:51বলছিলেন, পুলিশ আসামি ধরবে? আর
13:53ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দিবে। এইটা ভাই
13:56কেমনে হয়? যদি আসামি পরে জামিনই পাইয়া
13:58যায়। পুলিশ তো আর ঠিকমতন অ্যারেস্ট করার
14:00দিকে মনোযোগই দিবে না সিস্টেমের একটা অংশ
14:02কাজ করলে আরেকটা অংশ যদি কাজ না করে যেটা
14:05কাজ করতেছিল ওইটাও কাজ করা বন্ধ করে দিবে
14:08নেতারা এই গ্যাং মেম্বারদের কেন এত হেল্প
14:10করে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে কার পিছনে
14:12কয়জন লোক আছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা
14:15ফ্যাক্টর যেই নেতার পিছনে যত মানুষ সে তত
14:18বেশি শক্তিশালী মানুষ বেশি আনতে এই কিশোর
14:20গ্যাংগুলা দরকার আর বেশি মানুষ হইলে এদের
14:23পিছনে খরচও বেশি করা দরকার এত খরচের জন্য
14:26আবার অবৈধ টাকার দরকার এই অবৈধ টাকা আনার
14:29জন্য আবার কিশোর গ্যাংকে দরকার। মানে
14:31দেখেন পুরো একটা দারিদ্রের দুষ্টচক্রের
14:33মতন লুপ হইয়া গেছে। এই লুপ থেকে আসলে সহজে
14:36বের হওয়া যাবে না। যতদিন না আমরা এটার কোন
14:38সমাধান বাই করি। এখন আপনাদের সবারই
14:40প্রশ্ন। এই জায়গায় সমাধানটা আসলে কি হইতে
14:43পারে? সবচেয়ে ভালো একটা উদাহরণ উত্তর
14:45আমেরিকার দেশ এলসালভেদন। আজকে থেকে প্রায়
14:4710 বছর আগে এই দেশকে বলা হইতো মার্ডার
14:50ক্যাপিটাল অফ দা ওয়ার্ল্ড। 2015 সালে এই
14:53দেশের হোমিসাইড রেট ছিল 105 পার লাখ। মানে
14:56বছরে প্রতি 1 লক্ষ মানুষের মধ্যে 105 জন
15:00মানুষ অন্য আরেকজন মানুষের হাতে মারা
15:02যাইত। আর ঠিক 10 বছর পরে 2025 সালে এই রেট
15:05হইছে 1.36 পার লাখ মানে এখন লাখে মাত্র
15:10একজনের মতন মানুষ খুন হয়। কথা হইলো এটা
15:12কেমনে সম্ভব হইছে? এইটা সম্ভব হইছে
15:14এলসালভেদরের প্রেসিডেন্ট নাই বুকেলের জন্য
15:182019 সালে মাত্র 37 বছর বয়সে উনি
15:21প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তারপর দেশের
15:23গ্যাং কালচার ধ্বংস করা শুরু করেন। তখন
15:25এলসালভেদরে মেইনলি দুইটা গ্যাং ছিল এমএস
15:2813 ব্যারিও 18 ক্ষমতায় আসার পরে নতুন
15:30সরকার গ্যাংগুলাকে দমনের জন্য বেশ কয়েকটা
15:33স্টেপ নেয়। যেমন 2022 থেকে 2024। এই দুই
15:36বছরের মধ্যে এলসালভেদরে প্রায় 75,000 এর
15:39মতন গ্যাং মেম্বারকে আটক করা হয়। যেইটা
15:42ওদের মোট জনগণের 1% মানে পুরা দেশের প্রতি
15:45100 জনের একজন জেলে আটকা। কত পরিমাণ
15:48মানুষকে ধরা হইছে চিন্তা করেন। এত
15:49তাড়াতাড়ি ধরার ফলে গ্যাংদের নেটওয়ার্ক
15:52ভাইঙ্গা যায়। একজনকে আটকায় রাখলে অন্য
15:54আরেকজন দায়িত্ব নিবে। এই সিস্টেমটাই তো
15:56থাকতেছে না। কারণ ভাই সবাই তো জেলে। গ্যাং
15:58এর বাকি সদস্যরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে
16:01তেমন কোন রেসপন্সই করতে পারে নাই। আগে যখন
16:03গ্যাং মেম্বাররা মানুষ খুন করার মোডে
16:06রাস্তায় নামতো। তারা এখন সবাই জাস্ট
16:08বাইচা থাকবো। সারভাইভাল মোডে চইলা গেছে।
16:10অনেকে এলাকা ছাইড়া পালাইছে। অনেকে তো দেশ
16:12ছাইড়াই পালাইছে। আর গ্যাং মেম্বারদের তো
16:14শুধু পুলিশ ধরলে হয় না। এমন একটা সিস্টেম
16:16করতে হবে যাতে জামিন পাইয়া জেলের বাইরে
16:18বাইর হইতে না পারে। এদের আটকায় রাখার জন্য
16:21সরকার টেরোরিজম কনফাইনমেন্ট সেন্টার নামে
16:23একটা সুপার জেল তৈরি করে। মাত্র 60 লক্ষ
16:26মানুষের দেশে এমন একটা জেল তৈরি করা হয়
16:29যেখানে বর্তমানে প্রায় 40,000 এর বেশি
16:32কয়দি আটক আছে। যদিও এই সময় প্রেসিডেন্ট
16:34বুকেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু হিউম্যান রাইটস
16:36ভায়োলেন্সের অভিযোগ ওঠে। তারপরেও তাকে
16:38গ্যাং ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সাকসেসফুল ধরা
16:40হয়। বাংলাদেশেও কিন্তু একইভাবে 2002 সালে
16:43খালেদা জিয়ার আমলে অপারেশন ক্লিন হার্ট
16:46করা হয়। যাতে করে দেশের শৃঙ্খলা ফেরত আনা
16:48যায়। কিন্তু এই অপারেশন নিয়ে অনেক
16:49সমালোচনা আছে। যাইহোক বাংলাদেশের কিশোর
16:52গ্যাং এখনো ব্রেকিং ব্র্যাডের মেক্সিকান
16:54ড্রাগ কার্টেল কিংবা ইতালির সিসিলিয়ান
16:56মাফিয়াদের মতন হয় নাই। এই কারণে হয়তো
16:58এখনো সুযোগ আছে আমাদের হাতে। এই
17:00সমস্যাটাকে একদম শুরুতেই ধ্বংস করে ফেলার।
17:03ভিডিওর শুরুতে যে প্রশ্নটা করছিলাম। একটা
17:05ক্লাস সেভেনের 13 বছরের একটা বাচ্চা
17:07কিভাবে এই গ্যাং এর মধ্যে জড়ায়? উত্তরটা
17:09আশা করি মোটামুটি পরিষ্কার আপনাদের কাছে।
17:11এইটা শুধু একটা বখাটে বা খারাপ ছেলে
17:13হওয়ার গল্প, পরিবারের অবহেলা, দ্রুত টাকা
17:16পাওয়ার লোভ, সোশ্যাল মিডিয়ার শো অফ,
17:18এলাকায় পাওয়ার দেখানোর ইচ্ছা, রাজনৈতিক
17:21আশ্রয়, সহজে পার পায়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা
17:23সবকিছু মিলায়ে একজন কিশোরকে ধীরে ধীরে
17:26এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, যেখান
17:28থেকে ফেরত আসা খুবই কঠিন। আর এইটাকে
17:30শুরুতেই যদি থামানো না হয়, ভবিষ্যতে
17:32এটাকে থামানো খুবই কঠিন হবে। আজকের ভিডিও
17:35এই পর্যন্তই। আশা করি কিশোর গ্যাং
17:37সম্পর্কে ওভারঅল একটা আইডিয়া আপনারা
17:38পাইছেন। আপনার যদি এই ধরনের কন্টেন্ট গুলো
17:40ভালো লাগে এই চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে
17:42রাখতে পারেন এবং পাশে থাকা বেল আইকনটা
17:44প্রেস করতে কখনোই ভুলবেন না। সবাই ভালো
17:46থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে ইনশআল্লাহ
17:47পরবর্তী ভিডিওতে। আল্লাহ হাফেজ