Full transcript
0:00ম্যান ভার্সেস ওয়ার্ল্ড ডিসকভারির এই
0:02জনপ্রিয় শুটি শুরু হয়েছিল 2006 সালে।
0:05তবে আমাদের ফিরে যেতে হবে 10 বছর আগে।
0:07সালটা তখন 1996। বিয়ারগিলস তার বন্ধুদের
0:10সাথে আফ্রিকায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন।
0:12সেখান থেকে তিনি জিম্বাবুয়েতে যান স্কাই
0:15ড্রাইভিং এর জন্য। প্যারাসুটিং এ
0:16বিয়ারগিলসের বেশ ভালোই অভিজ্ঞতা ছিল। এর
0:18আগেও তিনি বেশ কয়েকবার স্কাই ড্রাইভিং
0:20করেছিলেন। সবকিছু প্ল্যান মোতাবেক চলছিল।
0:23ফ্রেন্ড তখন মাটি থেকে প্রায় 16,000 ফিট
0:25উপরে। হঠাৎ গ্রীনলাইট জ্বলে উঠল। আর
0:27বিমানের দরজা খুলে গেল। একজন বলে উঠলেন
0:30যাও যাও যাও সাথে সাথে সবাই বিমান থেকে
0:32লাফাতে শুরু করল বিয়ারগিলসও সবার সাথে
0:34লাফ দিলেন প্রায় 200 কিলোমিটার প্রতি
0:36ঘন্টা স্পিডে তিনি নিচে পড়তে থাকেন মাটি
0:39থেকে উচ্চতা 15000 ft তারপর 10 ft 5000 ft
0:42কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিয়ারগিস মাটি
0:44থেকে 3500 ft উপর এসে পৌঁছায় এবার সময়
0:47এসেছে প্যারাসুট খোলার সাথে সাথেই তিনি
0:50তার প্যারাসুটটি খুলে দিলেন কিন্তু
0:51প্যারাসুট খোলার পরেও কিছুতেই তার নিচে
0:54পড়ার স্পিড কম ছিল না বিয়ারগিস একটু
0:56অবাক হলেন। ভাবলেন প্যারাসুট খোলার পরেও
0:58কিভাবে এত বেশি স্পিড থাকতে পারে তাই তিনি
1:00উপরের দিকে তাকালেন। এরপর যা দেখেন তা
1:03দেখার পর বিয়ার পুরো প্যানিক হয়ে
1:04গিয়েছিলেন। তিনি দেখতে পান তার
1:06প্যারাসুটটি ঠিকমতো খোলা হয়নি।
1:07প্যারাসুটের রশিগুলো একটির সাথে অন্যটি
1:09প্যাচ খেয়ে আছে। তার ফলে প্যারাসুটটি তার
1:11গতি কমাতে পারছে না। এমন সিচুয়েশনে তিনি
1:14প্যারাসুটের রশিগুলো ধরে নাড়াচাড়া করতে
1:16শুরু করেন। বারবার চেষ্টা করতে থাকেন
1:18প্যাচ খেয়ে থাকা রশিগুলোকে স্বাভাবিক
1:20অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু তিনি ব্যর্থ
1:22হন। ফলাফল কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাটিতে
1:24আছরে পড়েন। এরপর চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে
1:27শুরু করেন। মাটিতে পড়ে তিনি ব্যথায়
1:28কাতরাচ্ছেন। ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি
1:31ছিল যে তার মনে ছিল কেউ তার মেরুদণ্ডের
1:33ভিতরে পাথর ঢুকিয়ে দিয়েছে। বিয়ের
1:35অপেক্ষা করতে থাকেন কখন তার বন্ধুবান্ধব
1:38তাকে এখান থেকে উদ্ধার করবে। এভাবে কেটে
1:40যায় বেশ কয়েক ঘন্টা। প্রায় চার থেকে
1:42সাড়েচার ঘন্টা পর তার বন্ধুরা তাকে খুঁজে
1:44পায়। এরপর একটি গাড়িতে করে পাশের একটি
1:46হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিয়ারগিল বলেছিলেন
1:49তখন তার এতটাই ব্যথা অনুভব হচ্ছিল যে তার
1:51মনেতে থাকে এমন ব্যথা সহ্য করার চেয়ে
1:53মৃত্যু ভালো। কিন্তু ওই সিচুয়েশনে তার
1:55মৃত্যু আসছিল না। হসপিটালে নেওয়ার পর
1:58ব্যথার কারণে তিনি বারবার জ্ঞান
2:00হারাচ্ছিলেন। অবশেষে ডাক্তার তাকে ইনজেকশন
2:02দেন। এর ফলে ব্যথা কিছুটা কমতে শুরু করে।
2:04গিয়ার ভাবতে শুরু করলেন হয়তো তিনি ধীরে
2:06ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরদিন তিনি
2:08ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেন, আমি আবার কবে
2:10সুস্থ উঠবো? আমার সুস্থ হতে আর কতদিন সময়
2:13লাগবে? উত্তরে ডাক্তার তাকে একটি এক্স
2:16রিপোর্ট দেখান। রিপোর্টটি সামনে নিয়ে
2:17ডাক্তার দাকে বলেন, তার পিঠের মেরুদণ্ডের
2:19প্রধান তিনটি হার টিট, টিন ও টি 12 ভেঙে
2:22গিয়েছে। মেরুদণ্ডের এই তিনটি হার অনেক
2:25বেশি মজবুত হওয়া সত্ত্বেও বিয়ার গিলসের
2:27এই তিনটি হাড় ভেঙে একদম চূর্ণ-বিচূর্ণ
2:29হয়ে গিয়েছে। ডক্টর আরও বলেন, তুমি আর
2:31কোনদিন হাড়চালো করতে পারবে না। এই কথা
2:33শুনে বিয়ারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
2:35কারণ পাহাড়ে চড়া মানুষটি আর কোনদিন
2:37নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। এমনকি একা
2:39একা ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে পারবে না।
2:41বিয়ারগিস বলেন, আমার পিঠের হাড়গুলো
2:43ভাঙ্গার সময়ও আমার এতটা কষ্ট হয়নি। যতটা
2:45কষ্ট হয়েছে হসপিটালে থেকে সেই হাড়গুলো
2:48জোড়া লাগাতে গিয়ে। সারাদিন হসপিটালে
2:50শুয়ে শুয়ে তিনি ভাবতেন তার বেঁচে থাকার
2:52উদ্দেশ্যটাই ছিল পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো। অথচ
2:54ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। তিনি আর কখনোই
2:57নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন না। এমন জীবন
2:59রেখে আর লাভ কি? মনে মনে নিজেকে নিজেই
3:02দোষারোপ করছিলেন। তিনি নিজেকে বারবার বলতে
3:04থাকেন সেদিন প্যানিক না হয়ে আমি চাইলে
3:06আস্তে ধীরে প্যারাসুটের রশিগুলো ঠিকভাবে
3:08খুলতে পারতাম। কিন্তু আমি কত বড় গাধা যে
3:11সেদিন মাথা ঠান্ডা না রেখে উল্টো প্যানিক
3:13হয়েছি। বারবার তার মাথায় শুধু এই
3:15মোমেন্টগুলোই ঘোরাফেরা করতে থাকে। আর
3:17সেগুলো ভাবতে ভাবতে নিজের উপর প্রচন্ড রাগ
3:19হয় তার। এভাবে প্রায় দুই মাস কেটে গেল।
3:21রিয়াগেস সুস্থ হওয়ার বদলে দিন দিন আরো
3:24অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। সময়ের সাথে সাথে তার
3:26অবস্থারও খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারণ সে
3:28সময় তার বয়স ছিল মাত্র 21 বছর। ওই বয়সে
3:30যদি কোন যুবক এটা জানতে পারে যে সে কোনদিন
3:33আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না তখন তার
3:35মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক
3:37কিছু না। বিয়ারির সাথেও ঠিক এমনটা
3:39হয়েছে। দিন দিদিন হতাশাগ্রস্ত হতে শুরু
3:41করে। ডিপ্রেশন তাকে সবদিক থেকে কাবু করে
3:43ফেলেছিল। রাধে তার ঘুম আসতো না। উল্টো আরো
3:45শ্বাসকষ্ট হতো। তার আশেপাশে থাকা পরিচিত
3:48মানুষ এগুলো দেখে প্রচন্ড অবাক হতো। কারণ
3:50মানসিকভাবে শক্তিশালী একটা ছেলে দিন দিন
3:52হতাশাগ্রস্ত ভীত হয়ে পড়ছে। কিছুদিন পর
3:56হসপিটাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। বাড়িতে
3:57এসে শুয়ে শুয়ে তিনি ভাবতে থাকেন আমি কি
3:59আবার আর্মিতে জয়েন করতে পারবো? কখনো কি
4:01আবার আগের মত হাঁটতে পারব? হঠাৎ তার চোখ
4:04যায় দেয়ালে থাকা মাউন্ট এভারেস্টের একটা
4:06ছবির উপরে। কিন্তু কেইবা জানতো দেয়ালের
4:08এই ছবিটির কারণেই বিয়ার নতুন এক জীবনের
4:10সন্তান পাবে। ছোটবেলা থেকেই বিয়ারগিলসো
4:13তার বাবার স্বপ্ন ছিল মাউন্ট এভারেস্টে
4:15চড়া। কিন্তু সেই সময়টাতে তিনি তো ঠিকমতো
4:17নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারছিলেন না। তবে
4:19হঠাৎ করেই তিনি এমন কিছু করে বসেন যা তিনি
4:21নিজেও কখনো এক্সপেক্ট করেননি। পিঠে মেটাল
4:24বেস থাকার পরেও তিনি নিজের বিছানা থেকে
4:26উঠে পড়েন। কোনমতেই গড়িয়ে গড়ি সেই
4:28ছবিটা পর্যন্ত পৌঁছায়। দেয়াল থেকে
4:30সেটিকে হাতে নেয়। আর মনে মনে বলেন যাই
4:32হোক না কেন আমি শুধু নিজের পায়ে
4:34দাঁড়াবোই না সাথে মাউন্ট এভারেস্টের
4:36চড়েও দেখাবো। সেই সময় বিয়ারগলি যা
4:38পরিকল্পনা করেছিলেন সাধারণ দৃষ্টিতে তা
4:40ছিল প্রায় একেবারেই অসম্ভব। ব্রিটিশ
4:42আর্মিরা মাউন্ট এভারেস্ট অনেকগুলো মিশন
4:44করেন। তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলোই
4:46ব্যর্থ হয়। এমনকি এত বড় একটা ইনজুরির পর
4:49তাকে বলা হয় তিনি আর কখনো উপর থেকে লাভ
4:51দিতে পারবেন না। আর আর্মি থেকেও তাকে কোন
4:53মিশনে নিতে রাজি হননি। তাই তিনি আর্মি
4:55থেকে রিজাইন নিয়ে নেন। রিজাইন নেওয়ার পর
4:57বিয়ের পরিকল্পনা করেন আর্মির পরিচয় নেয়
4:59বরং নিজের পরিচয় তিনি সেই মিশন কমপ্লিট
5:01করবেন। কিন্তু এত বড় একটা মিশনের জন্য তো
5:04তার অনেকগুলো টাকার প্রয়োজন। অন্যদিকে
5:06তখন তার কাছে এতগুলো টাকা ছিল না। তাই
5:08তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও মানুষের কাছে
5:10স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে শুরু করেন।
5:12কিন্তু কেউই তাকে স্পন্সর করতে রাজি হননি।
5:15কিন্তু হঠাৎ একদিন সাইকেল চালাতে চালাতে
5:17তিনি একটি কোম্পানির অফিসের সামনে এসে
5:19পৌঁছান। কোন চিন্তাভাবনা ছাড়াই তিনি
5:21কোম্পানির ভিতরে প্রবেশ করেন। রিসিপশনে
5:23গিয়ে সরাসরি বলেন আমাকে শুধু দু মিনিটের
5:25জন্য আপনাদের সিইও এর সাথে দেখা করতে দিন।
5:28তাকে কোনভাবেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল
5:30না। কিন্তু অনেক রিকোয়েস্ট করার পর অনেক
5:32বোঝানোর পর তাকে কোম্পানির সিইওর কাছে
5:34নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুজন ব্যক্তি
5:36খুব মনোযোগ সহকারে তার প্রস্তাবটি শুনে।
5:38অবিশ্বাস্যভাবে তারা বিয়ার গিলসের স্বপ্ন
5:40সাহস আর মনোবল দেখে তাদের স্পন্সরশিপ
5:43রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করে নেয় এবং
5:44বিয়ারের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হয়। অবশেষে
5:47এসএসএফএ সংস্থার সাহায্যে তিনি নেমে পড়েন
5:49তার স্বপ্ন পূরণের রাস্তায়। এসএস এএফএ
5:52হলো একটি যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা যা
5:54ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ মহিলা
5:57প্রবীণ সৈনিক ও তাদের পরিবারকে সহায়তা
5:59প্রদান করে। প্যারাসুটিং দুর্ঘটনার 18 মাস
6:01পর 1998 সালের 16ই মে তিনি তার শৈশবের
6:04স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মাউন্ট এভারেস্টের
6:06চুড়ায় পৌঁছানোর যাত্রা শুরু করেন। যদিও
6:09সেই যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না। বেশ
6:11কয়েকটি বড় বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে
6:13বহুবার তিনি প্রাণে বেঁচে যান। অবশেষে
6:15মাউন্টেন প্রথম দ্বিতীয় এই দুটি ক্যাম্প
6:17পার করে তিনি পৌঁছান তৃতীয় নম্বর
6:19ক্যাম্পে। শুধু আরেকটি ধাপ তারপর পৌঁছে
6:21যাবেন স্বপ্নের সেই এভারেস্টের চূড়ায়।
6:23কিন্তু ঠিক তখনই আরেকটি বাধা তার সামনে
6:26চলে আসে। হঠাৎ তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে
6:28পড়েন। ডক্টর তাকে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে
6:30বলেন। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা
6:32যায় মাউন্টেনে খুব বড় ধরনের একটি ঝড়
6:34আসতে চলছে। আর সেই ঝড় হওয়ার পর
6:36মাউন্টেনের চুড়ায় ওঠা কারো পক্ষেই সম্ভব
6:38হবে না। অন্যদিকে বিয়ারের সুস্থ হতে হতে
6:41সেই ঝড় এসে পড়বে। সব আশা হারিয়ে
6:43সৃষ্টিকর্তাকে সেদিন তিনি বলেছিলেন আমাকে
6:45কি আরেকটু সুযোগ দেওয়া যায় না? সেদিন
6:47বিয়ারের কথাগুলো হয়তো সৃষ্টিকর্তা
6:49শুনেছেন। যার মনে এত আত্মবিশ্বাস এত সাহস
6:52তাকে সৃষ্টিকর্তা কিভাবে বারবার খালি হাতে
6:54ফেরায়। তাইতো একদম মাউন্টেনের কাছে সে
6:56ঝড়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। ফলে মাউন্টেনের
6:59চোড়ায় ওঠার জন্য তিনি আরো দুদিন সময়
7:01পেয়ে যান। অসুস্থ বিয়ার গিলস পুরো
7:02উদ্যমের সাথে আবার তার যাত্রা শুরু করেন।
7:04তিনি পৌঁছে যান এভারেস্টের 26,000 ফিট
7:06উপরে যাকে এভারেস্টের দেশ জোন বলা হয়।
7:09এখানে অক্সিজেনের পরিমাণ এতটাই কম যে কিছু
7:11সময়ের মধ্যেই মানুষ মারা যায়। যারা যারা
7:13এভারেস্টে চুড়ে উঠতে চেয়েছিলেন তাদের
7:15বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু এখানেই হয়েছে।
7:17আশেপাশে তিনি অনেক মানুষের মৃতদেহ দেখতে
7:19পান যেগুলো হয়তো কয়েক বছর আগের। ভেতর
7:21থেকে তার মনে একটি ভয় কাজ করতে শুরু করে।
7:24কিন্তু তিনি নিজেকে বলেন, দেয়ার ইজ নো
7:26প্ল্যান বি। সকল ভয়ভীতি কাটিয়ে তিনি
7:28আবার উপরে চড়তে শুরু করেন। চড়তে চড়তে
7:30পৌঁছে গেলেন পাহাড়ের চূড়া থেকে মাত্র
7:32400 ফিট দূরে। তার আগে মাত্র 30 জন
7:34ব্রিটিশ নাগরিক এখানে পৌঁছাতে পেরেছিল।
7:36অবশেষে দুর্ঘটনার মাত্র 18 মাস পরেই
7:39বিয়ারগিলস পৌঁছে যান পৃথিবীর সবচেয়ে
7:41উঁচু পাহাড় মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়।
7:43মাত্র 23 বছর বয়সে এভারেস্টের চুড়ায়
7:45উঠে সবচেয়ে কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক
7:47ছিলেন তিনি। তিনি দেখিয়ে দেন অসম্ভবকে
7:49কিভাবে সম্ভব করতে হয়? কিভাবে নিজের
7:51স্বপ্ন দিয়ে পূরণ করতে হয়। কিছুদিন আগে
7:54বিয়ারগিলসকে প্রশ্ন করা হয়। 25 বছর আগে
7:56আপনি যে দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন এখন কি সেই
7:58পেন? আপনার শরীরে আছে? বিয়ার গিলস তখন তার
8:00Instagram প্রোফাইলে নিজের পিঠের একটি ছবি
8:03শেয়ার করেন আর বলেন হ্যাঁ এখনো প্রতিনিয়ত
8:05আমাকে এই ব্যথা সহ্য করতে হয়। বিয়ার
8:07গিলসের মনোবল আত্মবিশ্বাস আর দুঃস্বী সব
8:10অভিযান তাকে এক সাধারণ মানুষ থেকে সুপার
8:12হিরো বানিয়ে দিয়েছে। গল্প কিংবা মুভিতে
8:14তুমি হয়তো অনেক সুপার হিরোকেই দেখেছো।
8:16কিন্তু রিয়েল লাইফে বিয়ার গিলস এর মতো
8:18কজনকে দেখেছো। বিয়ার গিলসের জায়গায় যদি
8:20অন্য কেউ থাকতো তাহলে হয়তো বাকিরা জীবন
8:22হলচেয়ারে বসে কাটিয়ে দিত। কিন্তু
8:24বেয়ারগিসের মনোবল হসপিটালের অভিজ্ঞ সব
8:26ডাক্তারদের মেডিকেল রিসার্চকে ভুল প্রমাণ
8:29করেছে। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তাকে একটা
8:31সুযোগ দিয়েছে তখন সেটাকে কাজে লাগিয়ে তিনি
8:33পুরো পৃথিবীর মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
8:35এখন তোমার মনে হতে পারে যে বিয়ারগিলস
8:37ছোটবেলা থেকেই এমন সাহসী ছিলেন। কিন্তু
8:39আমি তোমাকে জানিয়ে রাখি তোমার এই ধারণা
8:41একদম ভুল। কারণ দুঃসাহস সব অভিযান করেই
8:44বিয়ার গিলসের ছিল একটি বিরল রোগ। যে রোগের
8:46কারণে মানুষ উচ্চতাকে ভয় পায়। হ্যাঁ, ঠিকই
8:48শুনেছো। উচ্চতাকে ভয় পাওয়া এক বিরল রোগে
8:51আক্রান্ত ছিলেন তিনি। একবার তাকে প্রশ্ন
8:53করা হয়েছিল বিয়ার তোমার এই সাফল্যের
8:55রহস্য কি? বিয়ার সেদিন উত্তর দিয়েছিল
8:57আমার সাফল্যের রহস্য হলো কিপ গোইং অর্থাৎ
8:59এগিয়ে যাওয়া। আমি নিজের কাছে ওয়াদা
9:01করেছিলাম আমি আমার পুরোটা জীবন সব ধরনের
9:03ভয়ভীতি ছাড়া বেঁচে থাকবো। পৃথিবীতে দুই
9:05ধরনের মানুষ আছে। একদল হলো সাহসী। যাদের
9:08কোন লিমিট নেই কোন সীমাবদ্ধতা নেই। তারা
9:10জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কঠিন রাস্তাকে
9:12বেঁচে নেয়। তারা সংগ্রামী প্রতিদিন তারা
9:14নিজের সাথে নিজের লড়াই করে নিজের রেকর্ড
9:16নিজেই ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আর এই কারণেই
9:18তাদের সামনে যতই বাধা আসুক না কেন তারা
9:20একদিন না একদিন ঠিকই তাদের লক্ষ্যে
9:21পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে আরেকদল মানুষ আছে
9:24যাদের মূল উদ্দেশ্যই শুধু এই পৃথিবীতে
9:25বেঁচে থাকা। কোনমাতে খেয়ে দিয়ে জীবনকে
9:27চালিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের একমাত্র
9:29উদ্দেশ্য। আর কোন কারণে যদি তাদের সামনে
9:31কোন বাধা কিংবা চ্যালেঞ্জ চলে আসে তাহলে
9:33তাদের যাত্রা ওখানেই শেষ। তারা জেতার জন্য
9:35বাঁচে না বরং বেঁচে থাকাকেই নিজের সাফল্য
9:38মনে করে। এখন বুঝতে পারলে তো পার্থক্যটা
9:40আসলে কোথায়? বিয়ারগিলস বলেন, সাহসী হওয়ার
9:42মানে এটা না যে তোমার ভেতরে কোন ভয় থাকতে
9:44পারবে না। বরং সাহসিকতার মানে হলো তোমার
9:46ভেতরে থাকা ওই ভয়টাকে কাটিয়ে ওঠা। মনে
9:49রাখবে জীবন একটাই। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা
9:51তোমাকে অনেকগুলো সুযোগ দেয়। তাই নিজেকে
9:53দুর্বল না ভেবে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে
9:55সৃষ্টিকর্তা দেওয়ার সুযোগগুলো কাজে লাগাতে
9:58শুরু করো। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি।
10:00ভালো লাগলে ভিডিওতে একটা লাইক করতে পারো।
10:02দেখা হচ্ছে পরবর্তী ভিডিওতে। ততক্ষণ
10:04পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব করে নগর বাইস্কোপের
10:06সাথেই থাকো। থ্যাংকস ফর ওয়াচিং।